ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ ও হিমেল বাতাসে শীত জেঁকে বসেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই ঘন কুয়াশা দেখা দেয়। কোথাও কোথাও বৃষ্টির মতো কুয়াশাও ঝরেছে।
অগ্রহায়ণে শীতের দাপট দেখা না গেলেও পৌষ মাসে এসে ঈশ্বরগঞ্জে এমন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের সঙ্গে দেখা মিলল হাড়কাঁপানো শীত। তবে গত তিন দিন আগেও ঈশ্বরগঞ্জে সকাল–বিকেলসহ রাতের তাপমাত্রা কম ছিল। দিনে ঝলমলে রোদ ছিল। হঠাৎ তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ বিপাকে পড়েছেন। রোদ না ওঠায় ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরে মানুষের আনাগোনাও কমেছে আগের চেয়ে। যারা বের হয়েছেন, মোটা ও গরম কাপড় পরে এসেছেন।
ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারে জড়সড় হয়ে বসে ছিলেন কয়েকজন ডাব বিক্রেতা। তারা বলেন, ‘আজ রোদ উঠেনি। মনে হচ্ছে আরও কিছুদিন রোদ উঠবে না, ডাব কিনে ভুলই করলাম নাকি!’
ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজারের ব্রিজ মোড়ে একটি ইজিবাইকে চালকের আসনে বসে আছেন মো. রুবেল মিয়া। তিনি বলেন, ‘খুব ভোর থেকেই আজ কুয়াশা ও বাতাস। মনে হচ্ছে এবারই প্রথম এমন ঠাণ্ডা পড়ল। সড়কে যাত্রী কম, তাই চলে যাচ্ছি। এই ঠাণ্ডার মধ্যে যাত্রী পাওয়া কঠিন।’
উপজেলা মাইজবাগ ইউনিয়নের লক্ষীগঞ্জ বাজার এলাকায় কথা হয় রিকশাচালক বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে। তার পরনে গরম কাপড়। তিনি বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তেমন ভাড়া পাননি। বিকালে কিছু ভাড়া পেলেও তুলনামূলক কম। কারণ রাস্তায় মানুষ কম। শীতে কয়েক দিন পর অভ্যস্ত হয়ে পড়লে হয়তো বের হবে মানুষ।
এদিকে শীত জেঁকে বসায় ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের ফুটপাতে শীতের কাপড়ের বিক্রি বেড়েছে। সাধারণত দুপুরের পর থেকে এসব ফুটপাতে বেচাকেনা শুরু হয়।
পৌর বাজারের মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন ধরনের শীতের কাপড় নিয়ে বসেছেন জামাল মিয়া। তার মতো সেখানে আরও কয়েকজন বিক্রেতা রয়েছেন। জামাল বলেন, শীত পড়ে গেছে। এখন বিক্রিও বেড়ে যাবে। তার দোকানে ১২০ থেকে শুরু করে ৫০০ টাকার দামের কাপড়ও রয়েছে।
সেখানে শীতের কাপড় কিনে বাড়ি ফিরছিলেন রবিউল আলম নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘এই শীতে বাচ্চাদের জন্য কিছু গরম কাপড় কিনতে এসেছি। পকেটের অবস্থা ভালো না। বাচ্চার মা ও আমার জন্য কিছু কিনবো না, পুরাতন কাপড়গুলো দিয়েই আমরা এবারের শীত চালিয়ে দিবো।’
জাকের আলী নয় নোয়াখালীর নেতৃত্বে নতুন মুখ, চট্টগ্রামের অধিনায়ক মেহেদী