পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ১১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৫০ এএম

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার রেকর্ড ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে। প্রায় ১০ ঘণ্টায় ৫০০ জনের একটি দল এ টাকা গণনার কাজ করেন।

গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় দানবাক্সগুলো খোলা হয়। পরে তা মসজিদের দোতলায় গণনার জন্য ৯টার দিকে নেওয়া হয়।

দিনভর টাকা গণনা শেষে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এবার ৩ মাস ২৭ দিন পর মসজিদের ১৩টি লোহার দানবাক্স খোলা হয়।

এতে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গেছে।

এর আগে , গত ৩০ আগস্ট কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স থেকে রেকর্ড ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে। সে সময় সাড়ে ১১ ঘণ্টায় ৫০০ জনের একটি দল এ টাকা গণনার কাজ করেন।

এর আগে গত ১২ এপ্রিল দানবাক্স খোলা হলে তখন ২৮ বস্তা টাকা পাওয়া যায়, যার গণনা শেষে রেকর্ড গড়ে পাওয়া গিয়েছিল ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা। সঙ্গে ছিল বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা এবং অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ। এবার প্রায় ৪ মাস ১৭ দিন পর দানবাক্সগুলো খোলা হয়।

টাকা গণনার কাজে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এরশাদুল আহমেদ, রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ আলী হারেছীসহ ঐতিহাসিক জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ২২০ ও পাগলা মসজিদের নুরুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসার ১২০ জন ছাত্র, ব্যাংকের ১০০ জন স্টাফ, মসজিদ কমিটির ৩৪ জন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২০ জন সদস্য অংশ নিয়েছেন।

মসজিদের দান থেকে পাওয়া এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট মসজিদসহ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়। এ ছাড়া করোনাকালে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবককেও অনুদান দেওয়া হয়েছিল এ দানের টাকা থেকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত