যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় কাজ করা তিন ডজনের বেশি আন্তর্জাতিক ত্রাণ ও মানবিক সংস্থার কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দেশটি জানায়, নতুন নিবন্ধন ও তথ্য প্রকাশসংক্রান্ত বিধি না মানায় বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি ২০২৬) থেকে এসব সংস্থার অনুমতি বাতিল করা হবে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের মতে, গাজায় সক্রিয় প্রায় ১৫ শতাংশ বেসরকারি সংস্থার লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসক সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ), নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল, কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি এবং অক্সফাম ও ক্যারিটাসের বিভিন্ন শাখা।
ইসরায়েলের অভিযোগ, এসব সংস্থা তাদের কর্মী, অর্থায়ন ও কার্যক্রম সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। তবে ত্রাণ সংস্থাগুলো এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলছে, কর্মীদের নিরাপত্তা ও ইউরোপীয় তথ্য সুরক্ষা আইনের কারণে তারা স্থানীয় কর্মীদের তালিকা দিতে পারেনি।
লাইসেন্স বাতিল হলে এসব সংস্থার ইসরায়েল ও পূর্ব জেরুজালেমের অফিস বন্ধ হয়ে যাবে এবং তারা গাজায় আন্তর্জাতিক কর্মী বা ত্রাণ পাঠাতে পারবে না। মানবিক সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলছে, যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও গাজায় খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সহায়তার চাহিদা বিপুল এবং এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে।
ইসরায়েলের সামরিক সহায়তা সমন্বয়কারী সংস্থা কোগাট জানিয়েছে, নিষিদ্ধ সংস্থাগুলো গাজায় মোট ত্রাণের এক শতাংশেরও কম সরবরাহ করে তবে অনুমোদন পাওয়া অন্য সংস্থাগুলোর মাধ্যমে সহায়তা অব্যাহত থাকবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে সহায়তা কার্যক্রমে এমন কড়াকড়ি মানবিক নীতির পরিপন্থী এবং গাজায় সংকট আরও গভীর করবে।
