অন্য কেউ নন, খেলাকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিজেই নেবেন দেশের নারী ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা সাবিনা খাতুন। বয়স এখন ৩২। নবীনদের সঙ্গে পাল্লা নিয়ে সমান্তরালেই খেলে চলেছেন। ফিটনেস নিয়েও কারও প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। আপাতত ফুটবল নয়, সাবিনার ভাবনায় শুধুই ফুটসাল। তার নের্তৃত্ব বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দল আজ থাইল্যান্ড যাচ্ছে ১৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রথম নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে। ক'দিন আগেই ভুটান থেকে ফিরেছেন সে দেশের লিগ খেলে। দুই ফরম্যাটেই খেলাটাকে বেশ উপভোগ করছেন সাবিনা। তারপরও খেলা ছাড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপের সংবাদ সম্মেলনে। পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন, খেলা ছাড়ার সিদ্ধান্তটা তিনি নিজেই নিতে চান। এক্ষেত্রে কারও চাপিয়ে দাওয়া সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন না তিনি।
২০২৪ সালের অক্টোবরে তার নের্তৃত্বে বাংলাদেশ টানা দ্বিতীয় সাফ জিতেছিল কাঠমান্ডুতে স্বাগতিক নেপালকে ফাইনালে হারিয়ে। সেটাই ছিল বাংলাদেশের জার্সিতে তার শেষ ম্যাচ। এরপর জলঘোলা অনেক বেশ। ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে সাফের টুর্নামেন্ট চলাকালীন বিরোধ ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। এক পর্যায়ে এ কোচের অধীনে অনুশীলন বয়কট করেন সাবিনাসহ ১৮ সিনিয়র ফুটবলার। বাটলারও ব্যাপারটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন। সাবিনাদের বাইরে রেখেই চেয়েছিলেন নতুন এক জাতীয় দল গড়ে তুলতে। তবে তার শুরুর উদ্যোগ ব্যর্থ হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে টানা দুই ম্যাচ বাজেভাবে হারায়। এরপর সেই বিদ্রোহীদের মধ্য থেকে অনেককেই জাতীয় দলে ডেকে নেন বাটলার। ডাকেননি সাবিনাসহ পাঁচ ফুটবলারকে। বলতে গেলে বন্ধ হয়ে যায় জাতীয় দলের দরজা। সাবিনারা অবশ্য একটা সময় নিজেদের অবস্থান থেকে বের হয়ে এসে চেয়েছিলেন ফিরতে। তবে কোচ সে সুযোগ রাখেননি। তাই মনেই হচ্ছিল সাবিনার ক্যারিয়ারে ইতি ঘটে গেছে। সাবিনা অবশ্য কখনই সেটা মানেননি। সংবাদ মাধ্যম থেকে নিজেকে পুরোপুরি দূরে সরিয়ে রাখা এ ফরোয়ার্ড মনযোগ দেন নিজের খেলা আর ফিটনেসে। ভুটানের লিগে পারো এফসি'র হয়ে অভিজ্ঞতার ছাঁপ রাখেন ভুরি ভুরি গোল করে এবং করিয়ে। লিগ শেষে ফিরে এসে অবশ্য বাড়িতেই ছিলেন। হয়তো মনের কোণে জমিয়ে রাখা ইচ্ছেটাকেই লালণ করছিলেন যে বাটলার হয়তো একটা সুযোগ দেবেন।
ব্রিটিশ কোচ প্রাপ্য সুযোগটা সাবিনাদের দেননি। বরং বাফুফে অন্য একটা পথ খুলে দেন সাবিনাদের সামনে। সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন প্রথমবারের মতো ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের ঘোষণা দিলে বাফুফের ফুটসাল কমিটি নারী দল গঠনের উদ্যোগ নেয়। সাবিনাসহ বেশ ক'জন সিনিয়রকে দেওয়া হয় ফুটসাল দলে খেলার প্রস্তাত। ঘরে অলস সময় কাটানোর চেয়ে ফুটসাল খেলার সুযোগটা লুফে নেন সাবিনা। এরপর এক মাসের বেশি সময় ইরানি কোচ সাঈদ খোদারাহামির অধীনে ফুটসাল পাঠ নিয়েছেন উত্তরার আবাসিক ক্যাম্পে থেকে। সাবিনাকেই অধিনায়ক করে গড়া ১৪ সদস্যের দল আজ যাচ্ছে থাইল্যান্ড। তার আগে বাফুফে ভবনে হলো পুরুষ ও নারী দলের সংবাদ সম্মেলন। যেখানে সাবিনা ছাড়াও ছিলেন বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম, ফুটসাল কমিটির প্রধান ইমরানুর রহমান, ইরানি কো খোদারাহমি, পুরুষ দলের দুই খেলোয়াড় এবং নারী দলের সহ-অধিনায়ক মাতসুশিমা সুমাইয়া। তবে আগ্রহের কেন্দ্রে ছিলেন সাবিনাই।
ফুটসালকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কী ফুটবলে সুযোগ না পাওয়া? সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে সাবিনার সোজা সাপটা জবাব, 'আসলে ক্যারিয়ার কখন শেষ হবে, যে প্লেয়ার, সে সিদ্ধান্ত তার নেওয়াই ভালো এবং এই জায়গাটাতে আমি একটু পেশাদার যে আমি কবে ফুটসাল ছাড়ব বা ফুটবল ছাড়ব সেটা আমি নিজেই ঠিক করবো। আমি যে এখন ফুটসালে কমিটেড, এরকমও কিছু না। যেহেতু আমি আগে খেলেছি, আমার অভিজ্ঞতা আছে, আমার জন্য যদি দেশের একটু ভালো হয় বা আমি যদি বাকি মেয়েদেরকে সমর্থন দিতে পারি, তাহলে কেন যাব না? তাই সেই জায়গা থেকে এমন ভাবার কিছু নাই যে সাবিনা আর ফুটবল খেলবে না। ফুটসালেই থাকবে বা ফুটসাল খেলবে না আবার ফুটবলে ব্যাক করবে। আমার যেখানে আসলে প্রয়োজন মনে হবে, যেহেতু দুইটা খেলাই আমি পারি, তাই আমি চেষ্টা করব ওই জায়গা থেকে সর্বোচ্চটা দেয়ার।'
বাটলারের সঙ্গে তিক্ততা, সে সুবাদে জাতীয় দলে ফেরার দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া- এসব নিয়ে কাল কথা বলতে হয়নি সাবিনাকে। তবে বেশ বোঝা গেছে, এ সময়টায় খেলাটাই সবচেয়ে বেশি উপভোগ করছেন। সেই উপভোগের মন্ত্রেই ফুটবল হোক কিংবা ফুটসাল- খেলাটা চালিয়ে যাবেন তিনি।
আগেই তো বলেছেন, বিদায়ের সিদ্ধান্তটা একাই নেবেন।
শামীমের 'ওয়ান ম্যান শো', এক ছক্কার জন্য পারলো না ঢাকা