গত এক সপ্তাহ ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে উত্তরের জেলা পাবনা। গতকাল সোমবার জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। দেখা মেলেনি সূর্যের। কনকনে ঠা-া আর হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটেখাওয়া মানুষ। হাসপাতালে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগী।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গতকাল সকাল ৯টায় পাবনায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এর আগে গত রবিবার তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শনিবার ৯, শুক্রবার ৮ দশমিক ৮, বৃহস্পতিবার ৯ দশমিক ৬ ও বুধবার ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে গত এক সপ্তাহের শৈত্যপ্রবাহে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাইরে কম বের হচ্ছেন। এতে সড়কে চলাচলাকারী অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের আয় কমেছে। কাজ সংকটে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন দিনমজুররা।
পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ সড়কে অটোরিকশাচালক নাসির বলেন, ‘শীতে রাস্তায় মানুষই নেই। যাত্রীর আশায় বসে থাকতে হচ্ছে, আবার এদিক-ওদিক ছুটতে হচ্ছে। কিন্তু যাত্রী নেই। ৫০০-৭০০ টাকা তো দূরে থাক ৩০০ টাকা কামাই করাই জুলুম হইছে। কীভাবে সংসার চলবে সেটাই এখন চিন্তার।’
আরেক অটোরিকশাচালক হাসু হোসেন বলেন, এই শহরে সাঁথিয়া, বেড়া ও সুজানগরসহ বিভিন্ন উপজেলার চালকরাও প্রতিদিন ভোরে আসে আর সারা দিন রিকশা চালিয়ে রাতে ফিরে যায়। কয়েক দিন ধরে তেমন আয় না থাকায় তাদের অনেকেই আসছে না। এই শীতে গাড়ি চালানো কষ্টকর হলেও সংসার চালানোর দায়ে তাদের বের হতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুধু আমাদের নয়, শ্রমজীবী সবারই আয় কমেছে, কাজ নেই।’
সকালে শহরের লাইব্রেরি বাজারসহ কয়েকটি জায়গায় শ্রমিকরা ঝুড়ি-কোদাল নিয়ে বসে থাকেন। অনেকেই তাদের নিয়ে গিয়ে মজুরিতে কাজ করান। কিন্তু এখন তারা বসে থেকেও কাজ পাচ্ছেন না।
এদিকে তীব্র শীতে হাসাপাতালে ভিড় বাড়ছে ঠা-াজনিত রোগীর। পাবনা জেনারেল হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় শ্বাসকষ্ট ও ঠা-াজনিত রোগের ৭০, নিউমোনিয়ার ৪০ ও ডায়রিয়ার ৩৬ রোগী চিকিৎসা নিয়েছে।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছর তীব্র শীত পড়লে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ে। এ মৌসুমেও বাড়ছে। তবে অন্য বছরের তুলনায় এখনো তেমন বেশি বাড়েনি। আমরা চেষ্টা করছি সর্বোচ্চ চিকিৎসাটা দেওয়ার।’ এ সময় শীতে গরম পেশাক পরিধানসহ সবাইকে একটু সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।