সাজেকে নবম দিনের মতো সড়ক অবরোধ

আগামীকাল একদিনের জন্য শিথিল

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫১ এএম

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের নবমতম দিন পালিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে অবরোধের সমর্থনে সাজেক সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন দেয় অবরোধকারীরা। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় পর্যটন ব্যবসার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও বিঘিœত হচ্ছে। সেই বিবেচনায় আগামীকাল রবিবার একদিনের জন্য অবরোধ কর্মসূচি শিথিল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। গত ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় এই অবরোধ কর্মসূচি চলছে।

এদিকে গতকাল শুক্রবার দুপুরে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি এক বিবৃতিতে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু গ্রুপ) সশস্ত্র সদস্যদের হামলা ও নির্যাতনে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর দায় সরকার ও সেনাবাহিনীকে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠন দুটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, সেনা ক্যাম্পের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করেও সশস্ত্র সদস্যরা সাধারণ মানুষকে হুমকি ও হয়রানি করছেন। অথচ তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

গতকাল দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা এসব কথা বলেন। বিবৃতিতে তারা দাবি করেন, গত ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বৈঠকে সরকারি প্রতিনিধিরা জেএসএস-সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিতে অপারগতা প্রকাশ করার পর সাজেকে তাদের সশস্ত্র তৎপরতা আরও বেড়েছে।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, গতকাল শুক্রবার জেএসএস-সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা চুদুগীছড়া মুশফিক আর্মি ক্যাম্প থেকে মাত্র পাঁচ থেকে সাত মিনিটের হাঁটা দূরত্বে প্রথমে গঙ্গারামের উত্তর ভাইবোনছড়া গ্রামে এবং পরে ভাইবোনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থান করেন। এ সময় তারা স্থানীয় লোকজনকে হুমকি ও হয়রানি করেন বলে দাবি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে এভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হলে সাজেকের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই সাজেকবাসীসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে জেএসএস-সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের অবিলম্বে সাজেক থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত