সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের পাতা অবৈধ ফাঁদে আটকে পড়া একটি বাঘিনীকে উদ্ধার করে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাঘটির শারীরিক অবস্থা ও আচরণ সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন একটি বিশেষজ্ঞ টিম।
বন বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত প্রাণীটিকে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত বলা যাচ্ছে না। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাঘিনীটিকে ঢাকায় নেওয়া হতে পারে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ফাঁদে আটকে থাকার কারণে বাঘিনীটির সামনের বাঁ পায়ে গুরুতর জখম হয়েছে। বর্তমানে খুলনার রেসকিউ সেন্টারে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে এর চিকিৎসা চলছে। প্রয়োজন অনুযায়ী স্যালাইন ও অন্যান্য চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, উদ্ধার অভিযানের পর বাঘিনীটিকে রেসকিউ সেন্টারে রেখে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রাণীটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক আচরণে ফিরছে এবং খাবার গ্রহণের চেষ্টাও করেছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, খুলনা অঞ্চলে বন বিভাগের নিজস্ব ভেটেরিনারি সার্জন না থাকায় গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে বিশেষজ্ঞ দল এনে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বন বিভাগের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা অংশ নেন।
গত শনিবার দুপুরের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে বন বিভাগ জানতে পারে, সুন্দরবনের পূর্ব অংশের চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির আওতাধীন শরকির খালসংলগ্ন বনাঞ্চলে একটি বাঘিনী ফাঁদে আটকে আছে। এলাকাটি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার বৈদ্যমারী ও জয়মনি বাজারের মধ্যবর্তী অংশে অবস্থিত।
গত রবিবার দুপুরে বন বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রানকুইলাইজার গান ব্যবহার করে বাঘিনীটিকে অচেতন করে। এরপর ফাঁদ কেটে উদ্ধার করে লোহার খাঁচায় করে খুলনায় নিয়ে আসা হয়।
এ ঘটনায় অবৈধভাবে ফাঁদ পাতা ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে বন বিভাগ। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সুন্দরবনে অবৈধ ফাঁদ প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
