নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুন্দরবনের সংরক্ষিত অভয়ারণ্যে মাছ শিকারে নেমে পড়েছিল জেলেদের একটি দল। এ সময় তাদের ট্রলার জব্দ করে ২২ জেলেকে আটক করেছে বনবিভাগ। মান্দারবাড়িয়া এলাকা থেকে ১০ মণ শাপলা পাতা মাছ, মাছ ধরার সরঞ্জাম ও দুটি ট্রলারসহ তাদের আটক করেছে বনবিভাগ।
অভিযান পরিচালনাকারী সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) আটক জেলেদের নিয়ে বনবিভাগের সদস্যরা লোকালয়ে ফিরেছে। বন আদালতের মাধ্যমে বিকেলে তাদের কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, অনুমতি ছাড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রবেশ করে অবৈধভাবে মাছ আহরণের খবরে পরিচালনা করা হয় অভিযান। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতব্যাপী অভিযানে সুন্দরবনের মান্দারবাড়িয়া অভয়ারণ্য এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। জব্দকৃত দুটি ট্রলার থেকে দড়ি-বড়শি, বরফের বক্সসহ মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
এসিএফ মশিউর জানান, জব্দকৃত ট্রলার ও সরঞ্জাম বনবিভাগের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং আটক ২২ জনের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার রাতে তাদের বন আদালতের নির্দেশে কারা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জব্দকৃত মাছ মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হচ্ছে।
মশিউর বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে আটক জেলেরা দাবি করেছেন, ঘন কুয়াশার কারণে পথ ভুল করে তারা অভয়ারণ্যে মান্দারবাড়িয়া এলাকায় ঢুকে পড়লে বনবিভাগ তাদের আটক করে।
এসিএফ মশিউর বলেন, সুন্দরবনের পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের স্বার্থে নির্দিষ্ট সময়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও কাঁকড়া আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে। আইন অমান্য করে বনসম্পদ আহরণ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।
