জকসু নির্বাচনে ৪ কেন্দ্রে এগিয়ে শিবির সমর্থিত প্যানেল 

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোট গণনার প্রাথমিক ধাপে চারটি কেন্দ্রের ফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, এসব কেন্দ্রে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে এগিয়ে রয়েছেন। বুধবার সকাল সাতটার দিকে এই তথ্য জানানো হয়।

এখন পর্যন্ত ঘোষিত চার কেন্দ্রের সমন্বিত ফলে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম ৪২৭ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের প্রার্থী একেএম রাকিব পেয়েছেন ৩৯৪ ভোট। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ছাত্রশিবিরের আব্দুল আলিম আরিফের প্রাপ্ত ভোট ৩৮৫, যেখানে ছাত্রদলের খাদিজাতুল কুবরার ঝুলিতে এসেছে ২০৫ ভোট। সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত মাসুদ রানা ৪০৫ ভোটে এগিয়ে আছেন, আর ছাত্রদলের বিএম আতিকুর রহমান তানজিল পেয়েছেন ৩২১ ভোট।

বিভাগভিত্তিক ফলাফলে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে ভিপি পদে রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ১০০ ভোট, ছাত্রদলের একেএম রাকিবের প্রাপ্তি ৯১ ভোট। একই বিভাগে জিএস পদে আব্দুল আলিম আরিফ পেয়েছেন ৯০ ভোট এবং খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ৪৫ ভোট। এজিএস পদে মাসুদ রানা পেয়েছেন ৯৮ ভোট, আর তানজিল পেয়েছেন ৪৫ ভোট।

নৃবিজ্ঞান বিভাগে ভিপি পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ১২৮ ভোট, ছাত্রদলের একেএম রাকিব পেয়েছেন ১১৮ ভোট। জিএস পদে আব্দুল আলিম আরিফের প্রাপ্ত ভোট ১২৩, আর খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ৭৩ ভোট। এজিএস পদে এখানে চিত্র ভিন্ন—ছাত্রশিবিরের মাসুদ রানা পেয়েছেন ১০২ ভোট, যেখানে ছাত্রদলের তানজিল পেয়েছেন ১২৬ ভোট।

লোক প্রশাসন বিভাগে ভিপি পদে ছাত্রশিবিরের রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ১২২ ভোট, আর ছাত্রদলের একেএম রাকিব এগিয়ে থেকে পেয়েছেন ১৩২ ভোট। জিএস পদে আব্দুল আলিম আরিফ পেয়েছেন ১২৩ ভোট এবং খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ৬২ ভোট। এজিএস পদে মাসুদ রানা পেয়েছেন ১৩০ ভোট, তানজিলের প্রাপ্তি ১০৬ ভোট।

ফার্মেসি বিভাগে ভিপি পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৮ ভোট, বিপরীতে একেএম রাকিব পেয়েছেন ৫৩ ভোট। জিএস পদে আব্দুল আলিম আরিফের ঝুলিতে এসেছে ৮৩ ভোট, খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২৬ ভোট। এজিএস পদে মাসুদ রানা পেয়েছেন ৭৮ ভোট, আর তানজিল পেয়েছেন ৪৫ ভোট।

ভোট গণনার প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত একটার দিকে প্রায় ৩০০ ভোটের একটি কেন্দ্রের ফল প্রথমে হাতে গণনা করা হয়। পরে একই ভোট দুটি ওএমআর মেশিন ব্যবহার করে পুনরায় গণনা করা হয়। ম্যানুয়াল ফলাফলের সঙ্গে যে মেশিনের ফল মিলে যাবে, সেই মেশিন দিয়েই বাকি কেন্দ্রগুলোর ভোট গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২৭৮টি ভোট দিয়ে পুনরায় গণনা শুরু হয়।

এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ভোট গণনার মেশিনে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে পুরো প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। সমস্যার সমাধান শেষে দীর্ঘ বিরতির পর আবার ভোট গণনা শুরু করে কমিশন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল নয়টা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ৩৯টি কেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ হলেও নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও কয়েকটি বিভাগে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়, যাদের ভোট দিতে সুযোগ দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত