চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করিনা, তবে টিকটক অনেক দেখি: মেসি

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:১৯ পিএম

২০২৬ সাল লিওনেল মেসির জন্য বিশেষ এক বছর। ইন্টার মায়ামির হয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে স্পেনের বিপক্ষে ফিনালিসিমা এবং যুক্তরাষ্ট্র–মেক্সিকো–কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ—সব মিলিয়ে ব্যস্ত সময় অপেক্ষা করছে বিশ্বসেরা তারকার জন্য। এই গুরুত্বপূর্ণ বছরের শুরুতেই ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার ও নিজের চরিত্রের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন লিওনেল মেসি।

‎আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় স্ট্রিমিং চ্যানেল লুজু টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি জানান, তার পরিবারে বলই যেন নিত্যসঙ্গী। তবে ঘরের ভেতরে ফুটবল খেলার ক্ষেত্রে কিছুটা কড়াকড়ি রয়েছে। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, “ঘরে খুব বেশি বল খেলতে দেয় না। তবে স্কুল থেকে বের হয়েই আমরা ক্লাবে চলে যাই। সময় পেলেই বলটা সামনে চলে আসে।”

‎নিজের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে মেসি স্বীকার করেন, তিনি ভীষণ গুছানো মানুষ। “আমার জিনিস কেউ নাড়াচাড়া করুক, এটা আমি পছন্দ করি না। সবকিছু কোথায় আছে, সেটা আমার জানা থাকতে হয়। ছোটবেলা থেকেই এমন। থিয়াগো আর সিরোও আমার মতোই,” বলেন তিনি।

‎স্ত্রী অ্যান্টোনেলা রোকুজ্জোর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মেসি জানান, তিনি খুব একটা আবেগপ্রবণ নন। “অ্যান্টোনেলা আমার চেয়ে অনেক বেশি রোমান্টিক। আমি বরং ঠান্ডা স্বভাবের। খুব বেশি আবেগ প্রকাশ করি না। তবে যাদের ভালোবাসি, তাদের সুখী দেখতে চাই—এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,” বলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

‎নিজের ‘অদ্ভুত’ দিক নিয়েও অকপট মেসি। তার ভাষায়, “আমি একটু বেশি অদ্ভুতও। একা থাকতে ভালো লাগে। তিনটা বাচ্চা দৌড়াদৌড়ি করলে অনেক সময় ক্লান্ত হয়ে যাই। তখন নিজের মতো করে শান্তিতে থাকতে চাই।”

‎লিওনেল মেসি বলেন—“আমি চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করি না। আসলে আমি কোনো এআই-ই ব্যবহার করি না। এটার বিরুদ্ধে বলেই নয়—স্রেফ এখনো অভ্যস্ত হইনি, বা ঠিকভাবে বুঝে উঠতে পারিনি।”

 

‎“অ্যান্টোনেলা কিন্তু সারাদিন চ্যাটজিপিটি-তেই থাকে—রান্নার রেসিপি, খাবার সংক্রান্ত প্রশ্ন, সবকিছুই সেখানে জিজ্ঞেস করে। আমি এখনো সেই দুনিয়ায় ঢুকিনি।”

‎“কিছু বিষয়ে আমি হয়তো বেশিরভাগ মানুষের চেয়ে একটু আলাদা। আমি একা থাকতে খুব পছন্দ করি।”

‎“তিনটা বাচ্চা যখন বাড়িতে এদিক–ওদিক দৌড়াদৌড়ি করে, সেই কোলাহলটা মাঝে মাঝে আমাকে ক্লান্ত করে দেয়। তখন আমার একান্ত সময় দরকার হয়।”

‎“একা থাকলে অনেক সময় শুধু শুয়ে টিভি দেখি বা কোনো ম্যাচ দেখি। বিশেষ কিছু না—চুপচাপ থাকাই আসল।”

 ‎
‎“মুডের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। খুব ছোট ছোট বিষয়, সামান্য কিছু ঘটনাও আমাকে প্রভাবিত করতে পারে। আমি যেখানে কিছু রেখে এসেছি, কেউ যদি সেটা সরিয়ে দেয়, বা দিনের পরিকল্পনায় কেউ পরিবর্তন আনলে, তাতেই আমার মন খারাপ হয়ে যেতে পারে।”

‎“আমি খুবই গুছানো মানুষ। দিনের কাজ যদি একটা নির্দিষ্টভাবে সাজানো থাকে, আর তার মাঝখানে হঠাৎ অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটে, তাহলেই আমি বিরক্ত হয়ে যাই। ওই অবস্থায় আমি চুপ করে যাই। কাউকে কিছু বলি না—ভেতরে ভেতরেই বিষয়টা সামলাই।”

‎“আমি টিকটক অনেক দেখি। এআই দিয়ে বানানো আমার কিছু ভিডিওও দেখেছি—একটায় তো দেখলাম আমাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করছে!”

‎মায়ামির জীবন সম্পর্কে মেসি বলেন, এখানে তিনি অনেক বেশি স্বস্তিতে আছেন। “এখানে মানুষ ফুটবল নিয়ে অতটা পাগল নয়। তাই জীবনটা অনেক শান্ত। আমাদের দৈনন্দিন রুটিন পুরোপুরি বাচ্চাদের ঘিরেই,” জানান তিনি।

‎ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মেসি বলেন, কোচ হওয়ার চিন্তা তার মাথায় নেই। বরং কোনো ক্লাবের মালিক বা পরিচালক হয়ে তরুণ ফুটবলারদের গড়ে তোলার ধারণাটাই তাকে বেশি টানে।

‎বিশ্বকাপ, শিরোপা ও সাফল্যে ভরা ক্যারিয়ার নিয়ে শেষ প্রশ্নে মেসির স্পষ্ট উত্তর—আর কিছু পাওয়ার নেই। “ঈশ্বর আমাকে ভাবনার চেয়েও বেশি দিয়েছেন। আর্জেন্টিনার সঙ্গে ট্রফিগুলো পাওয়া ছিল সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। এখন যা আসবে, সবই বোনাস,” বলেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত