রাবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সির প্রমাণ মেলায় তিন শিক্ষার্থী বহিষ্কার

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সিকাণ্ডের প্রমাণ মেলায় তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় সিন্ডিকেটের ৫৪৫তম সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অভিযুক্তদের হাতের লেখা চেক করাসহ নানান প্রক্রিয়ায় তদন্ত সম্পন্ন হয়। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী তাদের ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। ফলে তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে।

ছাত্রত্ব বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের 'অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস' বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সনি, আইন বিভাগের ফাহিম আল মামুন বর্ণ, ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শোভন।

বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিয়ে চার জনকে ভর্তি করিয়েছেন একই প্রক্সিদাতা। তাদের মধ্যে তিনজন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়ন করছেন। তারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের 'অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস' বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সনি, আইন বিভাগের ফাহিম আল মামুন বর্ণ, ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শোভন। তবে একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও তিনি ভর্তি হননি।

এরপর নিউজের সত্যতা প্রমাণে ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমানকে সভাপতি করা হয়। সদস্য করা হয় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসুদ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দিন খান ও সাবেক আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্যা। এছাড়া সদস্য সচিব হিসেবে আছেন উপ-রেজিস্ট্রার এ.এইচ.এম. আসলাম হোসেন।

তৎকালীন ভর্তি উপকমিটি ও সহপাঠীদের সূত্রে জানা গেছে, ফাহিম আল মামুন বর্ণ ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৮২.৬০ স্কোর করে ৪৬তম মেধাস্থান অর্জন করে ভর্তি হন আইন বিভাগে। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত আছেন। তিনি রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

একই পন্থা অবলম্বন করে ‘সি’ ইউনিটে ৭৯ দশমিক ৭০ নম্বর পেয়ে ভর্তি হন মো. শোভন। বর্তমানে তিনি ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগে তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত আছেন। তিনি রাজশাহীর মতিহার থানার বুধপাড়া গ্রামের মো. গোলাম সারওয়ারের ছেলে। তিনি রাবি শাখা ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার ভাতিজা।

‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মেহেদী হাসান সনি প্রক্সির মাধ্যমে ৭২ দশমিক ৬৫ নম্বর পেয়ে ১৬তম মেধাস্থান অর্জন করেন। তার রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ২১১০৩৩৩১৭০ এবং পরীক্ষার রোল নাম্বার ৯৬১১৫। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত রয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত