মাধবপুরে গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট চরমে, দিশেহারা সাধারণ মানুষ

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় প্রায় ২০ দিন ধরে তীব্র এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট চলছে। কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই এই সংকট শুরু হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও খুচরা দোকানে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে। কোথাও কোথাও মিললেও তা বিক্রি হচ্ছে অতিরিক্ত দামে।

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মাধবপুর উপজেলার অধিকাংশ পরিবার রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করে আসছে। জ্বালানি কাঠ ও কেরোসিনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কিন্তু হঠাৎ করে এলপিজি গ্যাসের এমন সংকটে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। অনেকেই বাধ্য হয়ে আবার কাঠ বা বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগে যেখানে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ থাকত, সেখানে এখন বড় বড় দোকানেও সিলিন্ডার নেই। কিছু কিছু দোকানে সীমিত পরিমাণে গ্যাস পাওয়া গেলেও ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকা হচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

ভুক্তভোগী এক গৃহিণী রিনা বেগম  জানান, আমরা কয়েক বছর ধরে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে রান্না করি। এখন তিন দিন ধরে গ্যাস শেষ। বাজারে খোঁজ করেও পাচ্ছি না। কোথাও পেলেও দাম অনেক বেশি। যেখানে সংসার চালানোই কষ্ট, সেখানে এত টাকা দিয়ে গ্যাস কিনব কীভাবে?

আরেক ভুক্তভোগী কামাল মিয়া বলেন, আগে হাটে গেলেই গ্যাস পাওয়া যেত। এখন দোকানদাররা বলে গ্যাস নেই। রান্না করতে না পেরে পরিবার নিয়ে বিপদে আছি।

এলপিজি ব্যবসায়ীরাও সংকটের কথা স্বীকার করে মাধবপুর বাজারের ব্যবসায়ী রমেশ কৈরী বলেন, আমরা কোম্পানি থেকে নিয়মিত সরবরাহ পাচ্ছি না। যার কারণে বাজারে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। কখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সে বিষয়েও আমাদের কোনো সঠিক তথ্য দেওয়া হয়নি।

তিনি আরও জানান, সরবরাহ কম থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত বাজার মনিটরিং বা কোনো ধরনের লিখিত ঘোষণা না থাকায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বেশি দামে গ্যাস কিনছে।

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাশেম বলেন, এলপিজি গ্যাস সংকটের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত