শীতকালে মুখ থেকে ধোঁয়া বের হয় যে কারণে

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম

কনকনে ঠাণ্ডায় বিশেষ করে শীতের সকালে আমরা যখন কথা বলি তখন মুখ দিয়ে কুয়াশার মতো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এ ঘটনায় সবাই অভ্যস্ত এবং বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেয়।  তবে এটি কোনো জাদুকরী বিষয় নয়। কিন্তু কেন হয় জানেন কী? চলুন জেনে নেই শীতকালে মুখ থেকে ধোঁয়া বের হওয়ার কারণে-

মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা সাধারণত ৯৮.৬° ফারেনহাইট (৩৭° সেলসিয়াস) থাকে। আমাদের ফুসফুস থেকে যে বাতাস বের হয়, তা শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রার সমান উষ্ণ এবং আর্দ্র থাকে। অন্যদিকে, শীতকালে বাইরের বাতাসের তাপমাত্রা শরীরের তাপমাত্রা থেকে অনেক কম থাকে। আর শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা এবং বাইরের পরিবেশের তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্যের কারণে এ ঘটনা দৃশ্যমান হয়। পার্থক্য যত বাড়ে তত এ ধরণের ঘটনা ঘটে বেশি।

আবার আমরা শ্বাস ছাড়ার সময় কার্বন ডাই-অক্সাইডের সঙ্গে সঙ্গে জলীয় বাষ্প বের হয়। এটি গরম কালেও বের হয়। কিন্তু শীত কালে সেটা স্পষ্ট দেখা যায়। কারণ উষ্ণ বাতাস অনেক বেশি জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে। কিন্তু বাতাস যখন খুব শীতল হয়, তখন তার জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। শীতকালে যেহেতু বাতাস খুব শীতল হয় তাই ধোঁয়ার মতো দেখা যায়। 

যখন আমরা উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস মুখ দিয়ে বের করি, তখন শীতকালে তা মুহূর্তের মধ্যে বাইরের হিমশীতল বাতাসের সংস্পর্শে আসে এবং দ্রুত ঠান্ডা হয়ে যায়। ফলে জলীয় বাষ্পগুলো আর গ্যাসীয় অবস্থায় থাকতে পারে না। জলীয় বাষ্পগুলো তখন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানির কণায় বা তরল বিন্দুতে পরিণত হয়। এই ক্ষুদ্র জলকণাগুলো যখন বাতাসে ভেসে বেড়ায়, তখন সেগুলোকে আমাদের চোখে ধোঁয়ার মতো বা মেঘের মতো মনে হয়। একেই আমরা মুখ থেকে বের হওয়া 'ধোঁয়া' বলে থাকি। মূলত এটি এক ধরণের তাৎক্ষণিক কুয়াশা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত