শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা: জামালপুরে ডিভাইসসহ আটক ৮ পরীক্ষার্থীর কারাদণ্ড

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম

জামালপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় নিষিদ্ধ ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগে বিভিন্ন কেন্দ্রের আট পরীক্ষার্থীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রসহ মেলান্দহ উপজেলার তিনটি পরীক্ষাকেন্দ্রে পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রে ডিভাইস ব্যবহারের দায়ে সালেমা আক্তার (৩১) নামে একজনসহ চারজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ সময় পরীক্ষার্থী সালেমা আক্তারকে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে আরও তিন দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত সালেমা আক্তারের বাড়ি ইসলামপুর উপজেলার তাবুরচর এলাকায়।

এ ঘটনায় বাকি তিনজনের তথ্য পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিচালক জামালপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হায়দার বলেন, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা কেন্দ্রে ডিভাইস ব্যবহার করার সময় একজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলা হয়। পরে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫ দিনের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

এদিকে মেলান্দহ উপজেলার চারটি পরীক্ষাকেন্দ্রে ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগে আরও চারজন পরীক্ষার্থীর কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদেরমধ্যে একজন পরীক্ষার্থীর ৪ দিন ও ৩ জনের তিনদিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ৫০ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে নিষিদ্ধ ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগে কামাল পারভেজ (৩০) নামে এক পরীক্ষার্থীকে চার দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা অর্থদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত কামাল পারভেজ জামালপুর সদর উপজেলার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।

এছাড়া ৩ দিনের কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মালঞ্চ আল আমিন জমিরিয়া মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী আমিনুর রহমান জাকির। তিনি সরিষাবাড়ী উপজেলার টিকাপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে। মেলান্দহ উমির উদ্দিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দণ্ডপ্রাপ্ত হন আনিসুর রহমান। তিনি ইসলামপুর উপজেলার সুবেরচর এলাকার সুরুজ্জামানের ছেলে। আর মেলান্দহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দণ্ডপ্রাপ্ত পরীক্ষার্থী সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলার তারতাপাড়া এলাকার আবুল কাশেমের মেয়ে।

মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে ছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় নিষিদ্ধ ডিভাইস ব্যবহার করায় চারজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদন্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত সকল পরীক্ষার্থীকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত