ভোলায় দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষে আহত ৩০

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম

ভোলার লালমোহনে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে লালমোহন উপজেলার রায়চাঁদ বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) কয়েকজন নারী কর্মী রায়চাঁদ বাজার এলাকায় গণসংযোগে যান। 

এ সময় তারা বিএনপির এক নেতার বাড়িতে গেলে সেখানে উপস্থিত বিএনপির কয়েকজন কর্মী তাদের প্রচারণায় বাধা দেন এবং বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বিকেলের দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম এবং লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবালসহ উভয় দলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত করেন।

তবে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম অভিযোগ করেন, রাতে তার সমর্থকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় বিএনপির কয়েকজন কর্মী পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালায়। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ ঘটনায় জামায়াত নেতা সোলাইমান জমাদার ও আবু জাফরসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল বলেন, জামায়াতের সহায়তায় বিডিপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে লালমোহনের শান্ত পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, মাগরিবের পর আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সংশ্লিষ্ট ক্যাডাররা বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি জসিম মাস্টার, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন নান্নু, নুরনবী, বসির, ইমন ও হৃদয়সহ অন্তত ১২ জন আহত হন।

লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, জুমার নামাজের আগে জামায়াতের নারী কর্মীদের দাওয়াতি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সন্ধ্যার পর রায়চাঁদ বাজার এলাকায় মোটরসাইকেল মহড়া ও পরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপকে কেন্দ্র করে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়।

তিনি আরও জানান, সংঘর্ষে আহত ৯ জনকে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত