ইরানে চলমান ব্যাপক বিক্ষোভের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি জনগণের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। জেরুজালেম পোস্টের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যদিও কীভাবে এবং কখন এই সহায়তা দেওয়া হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
ইরানে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে, যা ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তথ্য প্রবাহ মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাজার হাজার ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রবিবার সাংবাদিকদের বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরান নিয়ে ‘খুবই শক্তিশালী’ বিকল্পগুলো পর্যালোচনা করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরান কিছু ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করতে শুরু করেছে এবং এমন কিছু মানুষ নিহত হচ্ছে যাদের নিহত হওয়ার কথা নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা এটিকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সামরিক বাহিনী এটি পর্যালোচনা করছে এবং আমরা কিছু খুব শক্তিশালী বিকল্পের দিকে তাকিয়ে আছি।’
ট্রাম্প আরও জানান যে, তিনি ঘণ্টায় ঘণ্টায় ইরানের পরিস্থিতির আপডেট পাচ্ছেন। ইরান যদি মার্কিন স্বার্থে হামলা করে তাহলে তাদের ‘এমন মাত্রায় আঘাত করা হবে যা তারা কখনো কল্পনাও করেনি’ বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
একই সঙ্গে, ট্রাম্প বলেছেন যে তিনি টেসলা ও স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্ক-এর সঙ্গে কথা বলবেন ইরানে স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা পাঠানোর বিষয়ে। ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বিক্ষোভকারীরা যাতে যোগাযোগ রাখতে পারে, সেজন্য এই পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইন্টারনেট চালু করার চেষ্টা করতে পারি যদি সম্ভব হয়। ইলন এসব বিষয়ে খুবই দক্ষ। আমি তোমাদের সঙ্গে কথা শেষ করেই তাকে ফোন করব।’
এই ঘটনা ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকটকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামরিক, সাইবার বা প্রযুক্তিগত সহায়তার মতো বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও জানা যায়নি। পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত এবং উন্নয়নের অপেক্ষায় রয়েছে।
কারা পণ্যেই আগ্রহ বেশি
শেখ হাসিনার এপিএস লিকুর স্ত্রীর ১০ তলা ভবন জব্দ 