বেশিদিন হয়নি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তবে স্বল্প মেয়াদে দায়িত্ব পেয়েই তিনি চাইছেন একটা ছাপ রেখে যেতে। তার নিজ ইচ্ছেতেই রবিবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ভবনে এসেছিলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে নিজের ও সরকারের অবস্থান জানিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। কোনো অবস্থাতেই ভারতে খেলার পরিবেশ দেখছেন না আসিফ নজরুল। এ নিয়ে আয়োজক ভারত ও আইসিসি এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে প্রতিদিনই কিছু না কিছু ঘটছে। তাই সংবাদমাধ্যমও আসিফ নজরুলের কাছ থেকে ক্রিকেট নিয়েই জানতে চাইছেন বেশি। সেটা বুঝতে পেরেই বাফুফের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে সভা শেষে নিজ থেকেই আসিফ নজরুল অনুরোধ করলেন ফুটবলকে যাতে আলোচনায় রাখা হয়। একই সঙ্গে স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পেলেও ফুটবলের জন্য কিছু করার ইচ্ছের কথা প্রকাশ করেছেন উপদেষ্টা।
সাংবাদিকদের প্রশ্ন করতে না দিয়ে শুরুতেই আসিফ নজরুল বলেন, ‘শোনেন, আপনারা কথা বলেন না। আমি জানি আপনাদের প্রশ্ন কী, আপনারা কী জানতে চান এবং কী প্রচার করবেন সেটাও জানি। বাফুফেতে এসেছি কিন্তু ফুটবলের কিছু আদৌ প্রচার করবেন কি না, আমার সন্দেহ আছে। তবে যেটাই প্রচার করেন, ফুটবলের কথা একটু বলেন।’ এরপর ফুটবল কর্তাদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি তুলে ধরেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে আসার পর থেকে আমাদের সাবেক ক্রীড়া ও যুবমন্ত্রী আসিফ মাহমুদ এবং আমাদের বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ফুটবলে অনেক চমকপ্রদ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। মেয়েদের ফুটবল টিম সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ছেলেদের ফুটবল টিম বহু বছর পর ভারতকে হারিয়ে পুরো বাংলাদেশে আনন্দের বন্যা বইয়ে দিয়েছে। বয়সভিত্তিক অনেক টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছেন ওনারা, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট করেছেন, ট্যালেন্ট হান্টের মতো প্রোগ্রাম করেছেন।’ বাফুফের দাবিদাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে ওনাদের কিছু দাবিদাওয়া ছিল। আমি খুব অল্প দিনের জন্য আছি, কিন্তু তারপরও আমার কাছে মনে হয়েছে কয়েকটা জিনিস আমরা ওনাদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছি। এর মধ্যে ঢাকা স্টেডিয়াম সম্পূর্ণভাবে ফুটবলকে দিয়ে দেওয়া। তবে অন্যরাও (ক্রিকেট ছাড়া) প্রয়োজন হলে সেখানে আয়োজন করবে। যদি তারা অন্য কোথাও, উদাহরণস্বরূপ পূর্বাচল স্টেডিয়াম বা অন্য কোথাও জায়গা পেয়ে সরে যায় তখন এটা সম্পূর্ণ ফুটবলের হয়ে যাবে। এ ছাড়া সিলেট এবং চট্টগ্রামের দুটি স্টেডিয়াম পুরোপুরি ফুটবলকে দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। তবে শর্ত আছে, ক্রিকেট ছাড়া অন্য খেলার যদি টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রয়োজন পড়ে বাফুফে আয়োজন করতে দেবে। আমাদের কমলাপুরে যে স্টেডিয়ামটি আছে সেখানে শুধু মাঠের দায়িত্বভার ফুটবলকে দেওয়া হয়েছিল, এখন গ্যালারির দায়িত্বভারও দেওয়া হয়েছে। সেখানে যে ডরমিটরি আছে সেটাও রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনা করবে ফুটবল ফেডারেশন, তবে ওখানে অ্যালোকেশনটা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে দিতে হবে।’
