অ্যাশেজ হার ছাপিয়ে ব্রিটিশ মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রে আছে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের মদ্যপান এবং মাতলামির ঘটনা। অ্যাশেজ শেষ হওয়ার বেশ কিছুদিন কেটে গেলেও এই বিতর্ক থামছে না। সাবেক ইংল্যান্ড পেসার স্টুয়ার্ট ব্রড জানিয়েছেন, বর্তমান টেস্ট দলে কোনো ধরনের মদ্যপানের সংস্কৃতি নেই, কখনো ছিলও না। তবে তিনি বলেছেন, খেলোয়াড়রা নিজেই আরও সচেতন হলে মিডিয়ায় নেতিবাচক খবরগুলো এড়িয়ে যাওয়া যেত।
৩৯ বছর বয়সী ব্রড ইংল্যান্ডের ‘বাজবল’ যুগের শুরুতে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। ২০২৩ সালের অ্যাশেজ পর্যন্ত ১৫টি ম্যাচে ৬৭টি উইকেট নেন, যেখানে তার গড় ছিল ২৬.৬৭। সেই গ্রীষ্মের দ্য ওভালে সিরিজ ড্র করার পর তিনি অবসর নেন। গত বছরের সিডনি টেস্টে ইংল্যান্ডের ৪-১ ব্যবধানে হারার পর একটি নাইটক্লাবে হ্যারি ব্রুকের ঝগড়ার খবর প্রকাশ্যে আসে। এর ফলে তাকে ৩০,০০০ পাউন্ড জরিমানা করা হয়।
এছাড়া সিরিজের মাঝপথে অস্ট্রেলিয়ার নুসায় কিছু খেলোয়াড়কে মধ্যরাতে মদ্যপান করতে দেখা যায়। তাদের একজন বেন ডাকেট তো মাঝরাতে রাস্তায় মাতলামি করছিলেন! এই ঘটনার পর শ্রীলঙ্কা সফরে ক্রিকেটারদের জন্য রাত ১২টার পর ‘কারফিউ’ জারি করার চিন্তা করছে ইংল্যান্ডের টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে ‘দ্য লভ অফ ক্রিকেট’ পডকাস্টে ব্রড বলেন, এমন ব্যবস্থা দলের ওপর বিপরীত প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র কিছু খেলোয়াড়ই ভুল করেছে এবং তা মিডিয়ায় এসেছে। আমার মনে হয়, সঠিক সংস্কৃতি তখনই দৃঢ় যখন দলের খেলোয়াড়রা একে অপরকে সাহায্য করে। বেন ডাকেট একা থাকে না, হ্যারি ব্রুকও নয়। আমি সত্যিই রাত ১২টার পর কারফিউ জারির পক্ষে নই। যতক্ষণ আপনার চারপাশে মানুষ আছে যারা আপনাকে সঠিক সময়ে বাসায় পৌঁছে দিতে পারে, এবং আপনার সতীর্থরা বলে “তোমার সময় শেষ”, ততক্ষণ কারফিউ লাগানোর দরকার নেই।’
ইংল্যান্ডের মাঠের বাইরে আচরণ পেশাদারিত্বের অভাব হিসেবে সমালোচিত হয়েছে। তবে ব্রড জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার যারা একসাথে অনেক মাস বাড়ি থেকে দূরে থাকে, তাদের সঙ্গে অন্য খেলোয়াড়দের পার্থক্য আছে, ‘একজন আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ের কিছু না কিছু রিলিফ থাকা দরকার। আমি বলছি না এজন্য “একটু বিয়ার খাও, এটা তোমার রিলিফ”। কিন্তু যদি মানসিকভাবে নিজেকে রিল্যাক্স করার সুযোগ না থাকে, তাহলে মাথাও ঠিক থাকে না।’
ব্রড আরও বলেন, ‘ক্রিকেটাররা বছরে ছয় মাস হোটেলে থাকে। কিন্তু দলের মাঝে মদ্যপানের সংস্কৃতি নেই। আমি এই ব্যাপারে নিশ্চিত, কারণ আমি ছেলেদের ভালোভাবে জানি। মূল বিষয় হলো, পরিস্থিতি তৈরি হলে ছেলেরা যেন কোনো সমস্যায় না পড়ে, সেই বিষয়টা নিশ্চিত করা।’
নিজেকে এখনো ‘তরুণ’ ভাবা হ্যাজলউড বিশ্বকাপের জন্য কতটা প্রস্তুত?
দারুণ জয়ে সেমিফাইনালে এক পা ম্যান সিটির