যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে মাঠে বসে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল দেখার স্বপ্ন ভেঙে গেছে আফ্রিকার দুই শীর্ষ ফুটবল দল সেনেগাল এবং আইভরি কোস্টের ভক্তদের। গত ডিসেম্বরে এই দুই দেশকে যুক্তরাষ্ট্রে আংশিক প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়। এই বিধিনিষেধ অনুযায়ী যারা ইতিমধ্যে ভিসা পায়নি, তারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলা দেখতে পারবে না।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে চলবে বিশ্বকাপ। ইরান ও হাইতি থেকেও ভক্তরা এই বছরের বিশ্বকাপ দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবে না। তবে খেলোয়াড়, দলীয় কর্মকর্তারা এবং তাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের জন্য এতটা কড়াকড়ি নেই, যা সাধারণ দর্শকদের জন্য আছে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে উল্লিখিত দেশগুলোর দর্শকরা স্বাভাবিকভাবেই হতাশ এবং ক্ষুব্ধ।
সেনেগাল বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৬ জুন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের বিপক্ষে। এর চার দিন পর তারা একই ভেন্যুতে নরওয়ের বিপক্ষে খেলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে টরন্টোতে। আইভরি কোস্টও যুক্তরাষ্ট্রে দুটি ম্যাচ খেলবে। ১৪ জুন ফিলাডেলফিয়ায় ইকুয়েডরের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ এবং টরন্টোতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলে কুরাসাও এবং জার্মানির মধ্যকার জয়ী দলের সঙ্গে মুখোমুখি হবে।
ইএসপিএনকে সেনেগালের ভক্ত জিব্রিল গিয়ে মরক্কোর তানজিয়ারে বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না কেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমন সিদ্ধান্ত নিলেন যে নির্দিষ্ট দেশের মানুষ দলের খেলা দেখতে না পারবে। যদি এমন হয়, তাহলে তাদের উচিত ছিল বিশ্বকাপের আয়োজন না করা। যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই এমন পরিস্থিতি, সুযোগ এবং সম্পদ তৈরি করতে হবে যাতে সব যোগ্য দেশ থেকে ভক্তরা এসে নিজেদের দলের সমর্থন জানাতে পারে।’
সেনেগালের মহিলা ভক্ত সংগঠক ফাতু দিয়েধিয়ু বলেন, ‘আমরা সত্যিই অংশগ্রহণ করতে চাই, কিন্তু জানি না কিভাবে। এখন শুধু অপেক্ষা করি। হয়তো বিশ্বকাপের সময় পর্যন্ত তারা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে।’ গত বিশ্বকাপে সেনেগালকে সমর্থন করা শেইখ সাই বলেন, ‘আমরা আমাদের দলের সঙ্গে সর্বত্র ভ্রমণ করেছি। এবারও সেনেগাল বিশ্বকাপে স্থান পেয়েছে, তাই অবশ্যই আমাদের যেতে হবে।’
নিয়মানুযায়ী, যারা যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ বাসিন্দা, ভিসাধারী বা ডুয়েল নাগরিক, তারাই মাঠে উপস্থিত থাকতে পারবে। তাই এই দলগুলো ব্যাপকহারে সমর্থক হারাবে। আইভরি কোস্টের কোচ এমার্সে ফা অবশ্য সমস্যা সমাধানে আশাবাদী, ‘আমি আশা করি বিশ্বকাপের সময়ও সমাধান হয়ে যাবে। ফুটবল একটি উদযাপন, এবং এটি প্রতি চার বছরেই আসে। ভক্তদের এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত করা দুঃখজনক হবে।’
আইভরি কোস্টের উইঙ্গার ইয়ান ডিয়োমান্ডে বলেন, ‘আমাদের জন্য ঠিক আছে, আমরা ভক্ত ছাড়া খেলব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিটি ম্যাচে জয় অর্জন করা।’ দলের অধিনায়ক ফ্রাঙ্ক কেসি বলেন, ‘রাজনীতিকরা সমাধান বের করবে। আইভরি কোস্ট ফুটবল ফেডারেশনের ইভেন্ট কমিটির সঙ্গে মিলিত হয়ে আমরা ভক্তদের জন্য সহজ ব্যবস্থা করব।’ আইভরি কোস্টের ভক্ত টান ডেটোপেউ বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও হয়তো অনেক ভক্ত যেতে পারত না। কারণ টিকিটের দাম অনেক।’
‘ইংল্যান্ড ক্রিকেটে মদ্যপানের সংস্কৃতি নেই, তবে ক্রিকেটারদের রিলিফ প্রয়োজন’
নিজেকে এখনো ‘তরুণ’ ভাবা হ্যাজলউড বিশ্বকাপের জন্য কতটা প্রস্তুত?
‘ভাবছিলাম ট্রফিটা ছোট, সামনে দেখে বুঝলাম কতটা বিশাল’—জামাল ভূঁইয়া