ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে কঠোর বার্তা দিলো সৌদি আরব

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম

ইরানে বিক্ষোভ দমনে বলপ্রয়োগের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ওয়াশিংটন থেকে একাধিকবার সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত আসার পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। এমন প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব পরিষ্কার করে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত হবে না।

সৌদি সরকারের দায়িত্বশীল মহল ও সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানে হামলার জন্য সৌদি আরব তাদের ভূমি বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। বিষয়টি আগেভাগেই ইরানকে কূটনৈতিকভাবে জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। রিয়াদের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো রয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ থেকে অল্প দূরত্বে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন রয়েছে। তবে সৌদি আরব স্পষ্ট করেছে, তাদের ভূখণ্ড কোনো আগ্রাসী তৎপরতায় ব্যবহার করা হবে না।

এদিকে ইরানও পাল্টা অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে। দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে জবাব দেওয়া হবে। এই হুমকির প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র কাতারসহ কয়েকটি দেশে থাকা তাদের ঘাঁটি থেকে সেনা পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে।

কাতারের রাজধানী দোহার আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেখানে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা অবস্থান করেন। অতীতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর ওই ঘাঁটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।

প্রসঙ্গত, ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার কঠোর বক্তব্য ও সামরিক হুমকি দিয়ে আসছেন। তবে ইরানের ভেতরে সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় দেশটির প্রধান শহরগুলোতে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের দিকে যাচ্ছে। তবুও মার্কিন হামলার আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি, আর সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই সৌদি আরব তাদের নিরপেক্ষ অবস্থান স্পষ্ট করে দিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত