চট্টগ্রাম নগরে সুবিধাবঞ্চিত যুবকদের পুনর্বাসনে বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানকারী একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সংস্কার কাজে নগর ছাত্রদল নেতা রায়হানুল ইসলাম নামে এবং বিএনপি নেতা আহমদ কবীর ও তাদের অনুসারীরা বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আবদুল বাতেন। রায়হানুল চান্দগাঁও থানা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আহমেদ কবীর দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানের অনুসারী বলে পরিচয় দেন।
অধ্যক্ষের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সংস্কার কাজ করতে গেলেই দলবল নিয়ে এসে বাধা দিচ্ছেন রায়হানুল ও তার অনুসারীরা। প্রতিবাদ করলে মারধর করছেন। নেপথ্যে থেকে তাদের ইন্ধন দিচ্ছেন আহমদ কবীর। তিনি বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ানের নাম ভাঙিয়ে চান্দগাঁও এলাকায় অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন। এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে অধ্যক্ষ আবদুল বাতেনের কাছে চাঁদা দাবির সময় রায়হনুলসহ তিনজন পুলিশের হাতে আটকও হয়েছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার মধ্যে রায়হানুল ইসলাম এবং আহমদ কবীরের মোবাইলে একাধিবার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে উক্ত প্রতিষ্ঠানে যাতে জোরপূর্বক প্রবেশ, সংস্কার কাজে বাধা কিংবা হাঙ্গামা করতে না পারে সেজন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ বাস্তবায়ন করার জন্য নির্দেশনা দিলেও চান্দগাঁও থানা পুলিশ তা আমলে নিচ্ছে না বলে অভিযোগ অধ্যক্ষর। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন বলেন, ‘আমি থানায় নতুন এসেছি। বিষয়টি জানি না। বাদীকে থানায় আসতে বলুন।’
এর আগে গত বছরের ৩০ নভেম্বর সিনিয়র সিভিল জজ ৫ম আদালত, চট্টগ্রামে দায়ের করা অপর মামলায় (৩০৩/২৫) দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের ১৫১ ধারামতে সংস্কার কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি এবং জোরপূর্বক প্রবেশ না করার জন্য বিবাদী কথিত আহমদ কবীর, রায়হানুল ইসলাম, নুরু মিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন ওয়াহেদ ইলেকট্রিশিয়ান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের পক্ষে তৌহিদুল আলম।
শুনানি শেষে বিচারক ফারহান সামিন বাদীর আবেদন মঞ্জুর করেন। এ ছাড়া পৃথক আবেদনে দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের ৯৪ ধারামতে আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বলবৎ করার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয় আদালত। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের সংস্কার কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে পুলিশের তরফ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ অধ্যক্ষের।
