মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদীর তীরে খোলা আকাশের নিচে উন্মুক্ত পরিবেশে প্যাকটজাত করা হচ্ছে বিদেশ থেকে আমদানি করা পটাশ সার। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন তথা বিএডিসি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ সার আমদানি করছে রাশিয়া থেকে। আমদানিকৃত ওই সার চট্টগ্রাম থেকে লাইটার ভেসেল জাহাজে করে জেলার গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের তেতৈতলা গ্রামসংলগ্ন মেঘনা পুরাতন ফেরিঘাটে নোঙর করে। সেখানেই নদীর তীরে জাহাজ থেকে সার নামানোর পর উন্মুক্ত পরিবেশে খোলা ধুলোবালি মেখেই প্যাকেটজাত করার কাজ সেরে নিচ্ছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।
ওই সার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নাম নোয়াপাড়া গ্রুপ। তাদের গাফিলতিতে খোলা আকাশের নিচে প্যাকেটজাতের কারণে সারের গুণগত মান বিনষ্টের আশঙ্কা রয়েছে বলে বিএডিসি-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে সরেজমিন জেলার গজারিয়া উপজেলার তেতৈতলা গ্রামের মেঘনা পুরাতন ফেরিঘাটের মেঘনা নদীর তীরে গিয়ে দেখা গেছে, লাইটার ভেসেল থেকে পটাশ সার নামিয়ে খোলা আকাশের নিচে প্যাকেট করছেন কয়েকজন শ্রমিক। পাশেই গোবর ও ময়লার স্তূপ থাকলেও তা আমলে নিচ্ছেন না তারা। কর্মরত শ্রমিকরা জানান, এদিন প্রায় এক হাজার বস্তা সার প্যাকেট করেছেন। সারগুলোর আমদানিকারক নোয়াপাড়া গ্রুপ। প্যাকেট করার পর এই সার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হবে।
প্রত্যক্ষদর্শী শরীফ হোসেন জানান, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে করে মেঘনা তীরে ঘুরতে এসে তিনি উন্মুক্ত পরিবেশে ধুলোবালিতে সার প্যাকেট করার চিত্র তার চোখে পড়ে। এতে সারের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে বলে আমার ধারণা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত দৃষ্টি দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী তানিয়া আক্তার বলেন, এভাবে সার প্যাকেট করা হয় এই প্রথম দেখলাম। সারের মান ঠিক না থাকলে তো জমিতে এই সার দিলে কাজ হবে না। কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর নজরদারি করা উচিত ছিল।
এ সময় সেখানে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ওয়েট ম্যানেজার পরিচয় প্রদানকারী ফারুক শেখ বলেন, সারগুলো রাশিয়া থেকে আমদানি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে লাইটার জাহাজে করে আমরা এখানে নিয়ে এসেছি। এখান থেকে প্রতি ব্যাগে ৫০ কেজি করে ভরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হবে। তবে এতে গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে কি না, তা আমি বলতে পারব না। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সুমন ইসলাম বলেন, আমরা সাধারণত নিয়ম মেনেই কাজ করি। তবে আজ কিছু সমস্যার কারণে হয়তো যথাযথ নিয়ম মানা সম্ভব হয়নি।
জেলার গজারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফয়সাল আরাফাত বিন ছিদ্দিক বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। এগুলো সম্ভবত ঠিকাদারের মাধ্যমে আমদানি করা সার।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন বিএডিসির সহকারী ব্যবস্থাপক (পরিবহন) মো. সাজ্জাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, উন্মুক্ত পরিবেশে সার প্যাকেটজাত করার কোনো সুযোগ নেই। এতে সারের গুণগত মান নষ্ট হয়। এভাবে সার প্যাকেট করার বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমেই প্রথম জানলাম। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে বিএডিসির ব্যবস্থাপক (পরিবহন) মোহাম্মদ খসরু নোমান বলেন, ধুলোবালিতে সার প্যাকেট করার খবর পেয়ে আমি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। যথাযথ নিয়ম না মানলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
