বিপিএলের জন্য নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি চেয়ে আবেদনের সময়সীমা শেষ, কারা ফ্র্যাঞ্চাইজি পাচ্ছে সেই ৫ প্রতিষ্ঠানের নামও ঘোষণাও হয়ে গেছে। এ রকম পর্যায়ে ৬ নম্বর দল হিসেবে হঠাৎ করেই আবির্ভাব নোয়াখালী এক্সপ্রেস দলের। যাদের মালিকানায় দেশ ট্র্যাভেলস, শুরুতে যাদের চোখ ছিল রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজির দিকে। খেলার সূচির হিসেব মেলাতে, আরও কিছু ক্রিকেটারের বিপিএলে সুযোগ দিতে এমন ছেলে ভোলানো কিছু যুক্তিতে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে সুযোগ দিল বিপিএলে। নিলামে তারা খেলোয়াড়ই কিনছিল না, পরে বাধ্য হলো দুজনকে নিতে। অনুশীলনে বল দেয়নি পর্যাপ্ত। এমন অনেক বিতর্কের পর মাঠের খেলাতেও নোয়াখালী এক্সপ্রেস ছিল রাজধানীর লোকাল বাসের মতো। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলে ১০ ম্যাচের মাত্র ২টিতে তারা জিতেছে, আসরের মাঝপথেই তারা ছিটকে গেছে প্লে-অফের সমীকরণ থেকে। রংপুর রাইডার্সের কাছে ৮ উইকেটে হেরে শেষ হলো বিপিএলের আলোচিত নোয়াখালী অধ্যায়।
শেষটা অবশ্য খানিকটা হতাশারই ছিল নোয়াখালীর জন্য। আসরে নিজেদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংসটাই খেলেছিল খালেদ মাহমুদ সুজনের দল। মোহাম্মদ নবীর ছেলে হাসান ইসাখিল এক ম্যাচ আগে ৯২ রানে আউট হয়ে গিয়েছিলেন, কাল সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে অপরাজিত। তবে ১২০ বলের খেলায় একজন ব্যাটসম্যান যদি ৭২টা ডেলিভারি একাই খেলেন এবং রান করেন ১০৭, তাহলে সেই ইনিংস দলের কতটা কাজে লাগবে সেটা ফলেই স্পষ্ট। অবশ্য এই ম্যাচ থেকে তো নোয়াখালীরও প্রাপ্তির কিছু নেই, তরুণ এক ক্রিকেটার তার ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পেলেন এটাই বা কম কী! ২ উইকেটে ১৭৩ রান করে নোয়াখালী, ৩২ বলে ৪২ রান করেছেন অধিনায়ক হায়দার আলি। ১০ বলে ৯ রহমত আলি, ৭ বলে ৩ জাকের আলী, এদের নিয়েই ব্যাটিংয়ে নোয়াখালী।
সেঞ্চুরির পিঠে হয়েছে সেঞ্চুরি। ৬৩ বলে ১০৯ রানের ইনিংস খেলেছেন তাওহীদ হৃদয়। ইসাখিল ৬ মেরেছেন বেশি (১১), ৪ কম (৪)। হৃদয় ৪ মেরেছেন ১৫টি, ছয় ২টি। মালান অবশ্য মারতে পারেননি কাল, একটি চারে ১৭ বলে ১৫ রান করে আউট হয়ে গেছেন। হৃদয়ের সেঞ্চুরির সঙ্গে লিটন দাসের ৩৫ বলে অপরাজিত ৩৮ রানের ইনিংসে ২ বল আর ৮ উইকেট হারিয়ে জিতেছে রংপুর রাইডার্স।
শুরুতে রান খরায় ভুগলেও টুর্নামেন্টের শেষ দিকে এসে জ্বলে উঠেছেন হৃদয়। ইনিংসের সূচনায় নেমে পাচ্ছেন সাফল্য। যদিও জাতীয় দলে তার জায়গা মিডল অর্ডারে। এই মারপ্যাঁচ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে বাধা হবে না বলেই জানালেন হৃদয়, ‘আমাকে (লিটন দাস) যেটা বলেছে, যদি সবকিছু ঠিক থাকে, তুই বিশ্বকাপে তো মিডল অর্ডারেই খেলবি। চেষ্টা কর, মিডল অর্ডারে খেললে তোর জন্য ভালো একটা প্রস্তুতি হবে। কারণ, মিডলে খেলাটা একটু অন্যরকম খেলা। মিডলের খেলা এত সহজও না। মিডল অর্ডারে আবার আপনারা তো শুধু মনে করেন ফিফটি, এগুলোই শুধু রান। ইমপ্যাক্টফুল ইনিংসও মিডলে করা হয়। আমাকে এটাই বলেছে। আমিও চেষ্টা করেছি ওভাবে খেলতে। এই টুর্নামেন্টের শুরুটা মনে হয় তিন-চারেই করেছিলাম। পরে দলের সিদ্ধান্তে ওপেনিংয়ে নেমেছি’।
মোহাম্মদ নবী বাংলাদেশে চেনা মুখ। প্রতিপক্ষ হিসেবে ভুগিয়েছেন, প্রিমিয়ার লিগে বা বিপিএলে খেলতে এসে দলকে জিতিয়েছেন। এবার তার ছেলেও বাবার পথ ধরে হয়তো আরও আসবেন বাংলাদেশে। সেঞ্চুরির মতো বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য, ছক্কা মারার দক্ষতা সবই আছে তার। ৪ চার ও ১১ ছক্কায় ৭২ বলে করেছেন ১০৬ রান। বিপিএলে এক ইনিংসে এত ছক্কা আছে শুধু তিনজনের ক্রিস গেইল, তামিম ইকবাল আর জনসন চার্লসের। সেই তালিকায় ঢুকে পড়লেন ইসাখিলও। তবে এত রেকর্ডের হিসাব নাকি তার মাথায়ই ছিল না। ইসাখিল বললেন, ‘আমি কখনোই এটা ভেবে নামি না যে ১০টা বা ১১টা ছক্কা মারতেই হবে। আজ যে ১১টা ছক্কা মারলাম, সেটাও বুঝতে পারছিলাম না। তিন ম্যাচে আসলে অনেক ছক্কাই মেরেছি!’ মোট ১৮টা ছক্কা মেরেছেন ৩ ম্যাচে, এতেই তিনি হয়ে গেছেন আসরের সর্বোচ্চ ছক্কাবাজ! যদিও দল বিদায় নেওয়ায় পারভেজ হোসেন ইমনের সুযোগ থাকছে তাকে টপকে যাওয়ার, তবে ইমন এরই মধ্যে সিলেট টাইটানসের হয়ে খেলেছেন ১০ ম্যাচ আর তার ছক্কার সংখ্যা ১৭। প্লে-অফে খেললে ১১ ম্যাচে ইসাখিলকে টপকাতে পারবেন ইমন, যতগুলো ছক্কা এই আফগান মেরেছেন ৩ ম্যাচেই! ‘যদি কেউ আমাকে দলে নেয়, আমি আবার বিপিএলে আসতে চাই’, শেষ ম্যাচের পর এমনটাই বলেছেন ইসাখিল, তবে এই পারফরম্যান্সের পর নিশ্চয়ই তাকে নিলামের আগেই চুক্তিবদ্ধ করে নেবে কোনো দল। কিংবা বিপিএলের চেয়ে আরও ভালো কোনো লিগেও ডাক পেয়ে যেতে পারেন এই আফগান তরুণ।
