রাজধানীর ‘শারমিন একাডেমি’ নামে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) পল্টন মডেল থানায় মামলা করেন তিনি। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি ও স্কুলটির ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মিরপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে স্কুলের অফিসকক্ষে শিশুটিকে নির্মম নির্যাতনের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুল ইউনিফর্ম পরা ৩-৪ বছর বয়সী এক শিশুকে টানা-হেঁচড়া করে একটি কক্ষে নিয়ে যান এক প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহান। শিশুটিকে প্রথমে তিনি চড় দেন। এরপর শিশুটির ওপর চড়াও হন আগে থেকেই অফিস কক্ষে থাকা প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহানের স্বামী ও স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার।
ভিডিওতে দেখা যায়, পবিত্র কুমার কখনো শিশুটির গলা চেপে ধরছিলেন, কখনো মুখ চেপে ধরছিলেন। হাতে স্ট্যাপলার ছিল। শিশুটি কখনো কাঁদছিল, কখনো অস্থির হচ্ছিল। ওই নারী হাত ধরে তাকে আটকে রাখছিল। একপর্যায়ে শিশুটি ওই নারীর শাড়িতে থুতু ফেললে পুরুষটি শিশুটির মাথা শাড়িতে থুতু ফেলার জায়গায় চেপে ধরেন এবং সেই অবস্থায় কয়েকবার শিশুর মাথায় ঝাঁকি দেন।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি পলাতক ছিলেন। পরে এ ঘটনায় মামলায় দায়ের করা হলে বৃহস্পতিবার স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) হুসাইন মুহাম্মদ ফারাবী বলেন, শিশুটির বাবা-মা নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজ নিয়ে থানায় এসে অভিযোগ দেন। অভিযোগটি এজাহার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
