বিয়ের আসর থেকে বউ পালালে ব্যান্ড পার্টির শব্দকে কানের উপর অত্যাচার মনে হয়। বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপে না খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবার পর নাচেগানে, আতশবাজিতে আর আলোর রোশনাইতে ভরপুর বিপিএলের ফাইনালকেও অনেকের কাছে অসহ্য মনে হতে পারে। হেলিকপ্টারে করে ট্রফি নিয়ে এসেছেন আকবর আলি আর সালমা খাতুন। দলবল সহ নেচেছেন তানজিন তিশা। এসব শাক দিয়ে মাছ ঢাকার প্রচেষ্টায় কি আর বিশ্বকাপ না খেলার ক্ষত সারে! ফাইনালে তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি আবারো আক্ষেপটা বাড়াল, ছন্দে থেকেও যে বিশ্বকাপে খেলা হল না তার।
তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রায় বছর ছয়েক পর বিপিএলের ফাইনালে সেঞ্চুরি করেছেন তামিম। যে উইকেট দিন দুয়েক আগেও ছিল বধ্যভূমি, যেখানে ১১১ রান তাড়া করে শেষ বলে ছক্কায় জিতেছিল সিলেট, যেখানে ১৪০ রান করতেই ওঠে নাভিশ্বাস, সেখানে রাজশাহী টসে হেরে আগে ব্যাট করে করল ৪ উইকেটে ১৭৪ রান।মূল কৃতিত্বটা সাহেবজাদা ফারহান আর তামিমের। দুজনের উদ্বোধনী জুটি ৮৩ রানের। তুখোড় কৌশলী কোচ হান্নান সরকার জানতেন, শুরুতে উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহটা বড় করতে পারলেই চাপে ফেলা যাবে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে। কৌশলটা কাজে লাগিয়েছেন ফারহান ও তামিম। পাওয়ার প্লে'তে বিনা উইকেটে ৪০, প্রথম উইকেটের পতন ১১তম ওভারে। এরপর কেন উইলিয়ামসন নেমে১৫ বলে ২৪ রান করে রানের চাকাটা সচল রাখেন। শরিফুলের বলে নাইমের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন আগের ম্যাচের সেরা ব্যাটসম্যান উইলিয়ামসন, এরপর জেমস নিশাম করেছেন ৭ বলে ৬।
ফাইনালের আলোটা কেড়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। ৬২ বলে ১০০ রানের ইনিংস খেলে দলের সংগ্রহটাকে পৌঁছে দিয়েছেন চট্টগ্রামের ধরাছোঁয়ার বাইরে। ৭টা ছক্কা মেরেছেন তামিম। গত বছর টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪১ ছক্কা মেরেছিলেন তামিম। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ভেতর সহজাতপ্রবৃত্তিতেই ছক্কা মারতে পারেন তিনি। যদিও তিন অংকের রানে পৌঁছানোর যাত্রাটা মসৃন ছিল না তামিমের, দুইবার পেয়েছেন জীবন। দুইবারই আমির জামালের বলে। প্রথমবার ৫৪ রানে, মুকিদুল ইসমাল মুগ্ধ ছেড়েছেন তার ক্যাচ। পরের বার ৮৮ রানে, আসিফ আলি ছাড়েন ক্যাচ। দুইবারই বোলার ছিলেন আমির জামাল। শেষ পর্যন্ত নিজেই ক্যাচ ধরে আমির জামাল আউট করেছেন তানজিদ তামিমকে, বোলার ছিলেন মুকিদুল।
জিততে হলে ১৭৫ রান করতে হতো চট্টগ্রাম রয়্যালসকে। অ্যাডাম রসিংটন থাকলে হয়তো একটা লড়াই জমিয়ে তুলতে পারত চট্টগ্রাম,কিন্তু এই ইংলিশ ব্যাটসম্যান চোট নিয়ে দেশে ফিরে যাবার সঙ্গে রানটাও বোধহয় নিয়ে গেছেন। ১৭৫ রান করার মত ব্যাটসম্যানই তো নেই চট্টগ্রামের স্কোয়াডে! কোটিটাকার ক্রিকেটার মোহাম্মদ নাইম শুরুতেই আউট বিনুরা ফার্নান্দোর বলে, ১০ বলে ৯ রান করে বোল্ড।মাহমুদুল হাসান জয় ০, হাসান নাওয়াজ ১১, জাহিদুজ্জামান ১১ আর অধিনায়ক শেখ মেহেদি হাসান আউট হয়েছেন ৪ রানে। আসিফ আলি ২১ রানে আউট হতেই মূলত শেষ হয়ে যায় চট্টগ্রামের জয়ের সব সম্ভাবনা। ১৭.৫ ওভারে ১১১ রানেই অলআউট হয় চট্টগ্রাম, ফাইনালে তাদের কপালে জুটল ৬৩ রানের হার।
অনুমিত ভাবেই ফাইনালটা হল একপেশে। চট্টগ্রামের ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা শেষ মুহূর্তে নিতে বাধ্য হয় বিসিবি। এলোমেলো একটা দলকে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে আসার কৃতিত্ব অধিনায়ক শেখ মেহেদি হাসানকে দিতেই হয়। তবে মনের জোরে লড়াইটা একটা পর্যায় পর্যন্ত চলে, ফাইনালে ধারে ভারে অনেক এগিয়ে থাকা রাজশাহীর সঙ্গে আর পারল না চট্টগ্রাম। ১৩ বল আগে হার নিশ্চিত হয়েছে তাদের, তবে ম্যাচটার ভাগ্য নিষ্পত্তি হয়ে গেছে আরও আগেই।
