ঢাকা-৪ আসনের (শ্যামপুর–কদমতলী) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেছেন, দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর ধরে দেশজুড়ে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত ছিল। শুধু এই এলাকা নয়, সমগ্র জাতিই সেই সময়ের অভিজ্ঞতা বহন করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ অপেক্ষার পর দেশবাসী এখন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর ঢাকা-৪ নির্বাচনী এলাকার শ্যামপুর থানাধীন ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের সামনে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের প্রত্যাশা ও এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন বিএনপির এই প্রার্থী।
পথসভায় তানভীর রবিন বলেন, দেশের মানুষ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে চায়। ভোটারদের আস্থার প্রতিদান দিতে তিনি সংসদে গিয়ে শুধুই এলাকার মানুষের কথা বলবেন—এমন অঙ্গীকারও করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সময়ের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জনপ্রতিনিধিরা এলাকার প্রকৃত উন্নয়নের পরিবর্তে লুটপাটে ব্যস্ত ছিলেন। বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ হলেও সাধারণ মানুষের জীবনমানের কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, এলাকায় বহিরাগত সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তদের দাপটে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছে, এমনকি বয়স্করাও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিদের যথাযথ মর্যাদা না দিয়ে জোর করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি চালু ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এলাকার ব্যবসায়ীদের দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের নিয়মিত চাঁদা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এতে ব্যবসার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে এই চাঁদাবাজির সংস্কৃতি বন্ধ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতির কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। সিটি করপোরেশনের আওতায় থাকা সত্ত্বেও এলাকায় পর্যাপ্ত কমিউনিটি সেন্টার, খেলার মাঠ ও বিনোদনমূলক সুযোগ না থাকায় তরুণ সমাজ নানা সামাজিক সমস্যার দিকে ঝুঁকছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। খেলাধুলার অভাবে কিশোরদের মধ্যে মাদকাসক্তি ও অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।
জলাবদ্ধতা সমস্যার কথা উল্লেখ করে তানভীর রবিন বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকাজুড়ে পানি জমে যায়। তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সিটি করপোরেশন ও ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
গ্যাস সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া গ্যাস লাইনের ওপর সড়ক উঁচু করার কারণে সংকট আরও তীব্র হয়েছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একসঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও এলপিজির খরচ বহন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে চাপের মুখে পড়ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তানভীর রবিন বলেন, সম্মান ও অংশগ্রহণভিত্তিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শ্রমজীবী মানুষসহ সমাজের সব শ্রেণির মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থানীয় মুরুব্বি, আলেম ও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নিজেকে কেবল প্রার্থী নয়, এলাকার সন্তান হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, শৈশব থেকে বেড়ে ওঠার প্রতিটি মুহূর্তের সাক্ষী এলাকাবাসী। ভোটকে তিনি আমানত হিসেবে দেখেন এবং সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের কথাও জানান।
শেষে তিনি গুজবে কান না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর প্রত্যাশা, আসন্ন নির্বাচন হবে অবাধ ও নিরপেক্ষ। জনগণের রায়ে বিএনপি একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকার গঠন করে নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
মিনেসোটা হত্যাকাণ্ডে হোয়াইট হাউজের সুর পরিবর্তন
বিয়ের আগে নতুন সিনেমায় বিজয়-রাশমিকা