বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, তারেক রহমান ১৭ বছর লন্ডনে প্লেজার ট্রিপে ছিলেন না, জরুরি অবস্থার অনৈতিক সরকার ও পরবর্তিতে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্যাতন ও দমন নিপিড়নের শিকার হয়ে নির্বাসনে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন। যারা তারেক রহমানের লন্ডনে অবস্থান নিয়ে খোঁটা দেন, তারা জ্ঞানপাপী।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের গোবড়াকুড়া স্থলবন্দরে আয়োজিত নির্বাচনী শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
শ্রমিক সমাবেশে তিনি বলেন, নবীন কিছু রাজনীতিবিদ শিষ্টাচার বহির্ভূতভাবে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। যিনি তারেক রহমানকে বাস থেকে নেমে অলি গলি চিনতে বলছেন, তারা অলি গলি, গ্রাম-শহর চেনেন কী না- তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তারা অবশ্য দেশের গ্রাম শহর না চিনলেও গণঅভ্যুত্থানকে ব্যবহার করে সরকারের উপদেষ্টা হয়ে অবৈধ পথে দুই হাতে হাজার হাজার কোটি টাকা কামাইতে ভুলেন নাই।
তিনি বলেন, তারেক রহমান এবং বিএনপির ওপর তাদের এই আক্রমণের হেতু জনগণ জানে। তারেক জ্বরে দেশ আজ কাঁপছে, তারেক ম্যাজিকে দেশ ভাসছে। একারণে অন্যদের পাত্তা নাই। এখন আলোচনায় থাকার জন্য তারা বেফাঁস কথা বলছেন। এরা বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করতে চেয়েছিল। তাদের খারাপ ইমেজের কারণে বিএনপি সম্মত না হওয়ায় নির্বাচন না করতে পেরে এখন বিষোদগার শুরু করেছে।
সমাবেশে তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার প্রসঙ্গে গভীর সম্মান ও সহানুভূতি জানিয়ে বলেন, শ্রমিকরা এ দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তাদের ঘামেই সচল থাকে কলকারখানা, বন্দর ও সীমান্ত বাণিজ্য। অথচ দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত।
প্রিন্স আরও বলেন, শহীদ জিয়া শ্রমিকবান্ধব রাজনীতির সূচনা করেছিলেন, তিনি নিজেকে একজন শ্রমিক পরিচয় দিতেন। আর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারাকে এগিয়ে নিয়েছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বন্দরভিত্তিক উন্নয়ন এবং শ্রমিক কল্যাণ তহবিল জোরদার করা হবে।
শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি সাইদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আমজাদ আলী, চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামসুল আলম সামস, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আলিমুল ইসলাম, সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহিদুর রহমান বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, স্থলবন্দরের শ্রমিক নেতা এবং বিপুল সংখ্যক শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন।
