মারাত্মক ক্রাম্প নিয়ে অবিশ্বাস্য জয়: অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে আলকারাজ

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম

শারীরিক সীমাবদ্ধতার মাঝেও মানসিক দৃঢ়তার এক মহাকাব্য লিখে আলেকসান্দার জভেরেভকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠেছেন স্পেনের কার্লোস আলকারাজ। পাঁচ ঘণ্টা ২৭ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ৬-৪, ৭-৬ (৭-৫), ৬-৭ (৩-৭), ৬-৭ (৪-৭), ৭-৫ সেটে জয় তুলে নেন বিশ্বসেরা এই টেনিস তারকা। ইতিহাসের দীর্ঘতম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন সেমিফাইনাল হিসেবে ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ম্যাচের শুরুতে প্রথম দুই সেট জিতে দাপট দেখান আলকারাজ। তবে তৃতীয় সেটে ৪-৪ সমতায় সার্ভ করার সময় হঠাৎ তীব্র ক্র্যাম্পে আক্রান্ত হন তিনি। এরপর সার্ভ করা কিংবা স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করাও কঠিন হয়ে পড়ে। চিকিৎসা বিরতি নিতে বাধ্য হন আলকারাজ, যা নিয়ে জভেরেভ কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করেন। পঞ্চম সেটে প্রথমে ব্রেক নিয়ে ম্যাচ জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যান জভেরেভ। ৫-৪ গেমে ম্যাচ সার্ভ করার সুযোগও পান তিনি। ম্যাচের মাঝপথে ক্রাম্পে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে আলকারাজকে।

সেখান থেকেই অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচে ফিরে আসেন আলকারাজ। আক্রমণাত্মক মেজাজে ম্যাচজুড়ে তিনি ৭৮টি উইনার মারেন, যেখানে জভেরেভের ছিল ৫৬টি। জয়ের মুহূর্তে আবেগে তিনি কোর্টে লুটিয়ে পড়েন। এই জয় ২২ বছর বয়সী স্প্যানিশ তারকার জন্য ইতিহাস গড়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। রবিবার ফাইনালে জিতলে তিনি হবেন ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম পূর্ণ করা সবচেয়ে কম বয়সী পুরুষ খেলোয়াড়।

টেনিসের নিয়ম অনুযায়ী, শারীরিক আঘাত বা অসুস্থতার ক্ষেত্রে খেলোয়াড়রা তিন মিনিটের চিকিৎসা বিরতি নিতে পারেন। তবে ক্র্যাম্পকে শারীরিক আঘাত হিসেবে ধরা হয় না। নিয়মানুযায়ী, ক্র্যাম্প হলে সেট বিরতি বা সাইড পরিবর্তনের সময় চিকিৎসা নেওয়া যায়। গুরুতর ক্র্যাম্পে খেলতে না পারলে পয়েন্ট বা গেম ছেড়ে দিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ থাকে। যদি চিকিৎসক মনে করেন ক্র্যাম্প হয়নি, তাহলে খেলোয়াড়কে খেলা চালিয়ে যেতে হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত