বিশ্বকাপের আগে বড় এক সতর্কবার্তা পেল অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তানের শক্তিশালী স্পিন আক্রমণের সামনে একেবারেই দাঁড়াতে পারল না তারা। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামের তুলনামূলক ভালো উইকেটে আগে ব্যাট করে দাপুটে সংগ্রহ গড়ে, পরে স্পিন ঘূর্ণিতে সফরকারীদের গুঁড়িয়ে দিল স্বাগতিকরা।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলে পাকিস্তান। পাওয়ারপ্লেতে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ একপ্রকার ছিন্নভিন্ন করে দেন সালমান আগা ও সাইম আইয়ুব। ২৫ বলেই দুজনে যোগ করেন ৫৫ রান। পুরো পাওয়ারপ্লেতে পাকিস্তান তোলে ৭২ রান—টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাওয়ারপ্লেতে পাকিস্তানের তৃতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ এটি। এরপর সালমান আলি আগা নিজের ব্যাটিংয়ের সব অস্ত্র ব্যবহার করে মাত্র ৪০ বলে ৭৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। তার আগ্রাসী ব্যাটিং অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের কোনোভাবেই ম্যাচে ফিরতে দেয়নি। ক্যারিয়ারসেরা ৪০ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তবে অধিনায়ক বাবর আজাম আবারও ব্যর্থ। অ্যাডাম জাম্পার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে মাত্র ২ রান করে ফেরেন তিনি। আর উসমান খানও নিজের টি–টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোর ৫৩ রান করেন ৩৬ বলে। এই দুজনের ব্যাটে ভর করেই পাকিস্তান পৌঁছে যায় বড় সংগ্রহ ১৯৮ রানে।
জবাবে অস্ট্রেলিয়া শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। পাওয়ারপ্লেতেই স্পিন আক্রমণে যাওয়ার পাকিস্তানের কৌশল পুরোপুরি কাজে লেগে যায়। কোনো ব্যাটসম্যানই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি—কেবল কয়েকটি ছোট ছোট শুরু ছাড়া পুরো ইনিংস ছিল দিশেহারা।
স্পিনের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার দুর্বলতা আবারও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পাকিস্তান বোলাররা পরিস্থিতি দারুণভাবে বুঝে তুলনামূলক ধীর গতিতে বল করেন, যা সফরকারীদের জন্য বাড়তি সমস্যা তৈরি করে।
আবরার আহমেদ ও শাদাব খান নেন তিনটি করে উইকেট। উসমান তারিক দুটি উইকেট শিকার করেন। মোহাম্মদ নওয়াজ ছিলেন বেশ নিয়ন্ত্রিত ও কৃপণ।
বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটি বড় দুশ্চিন্তার বিষয়। উপমহাদেশের কন্ডিশনে স্পিন সামলাতে না পারলে সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান ৫ উইকেটে ১৯৮ রান (সালমান আগা ৭৬, উসমান খান ৫৩; কুপার কনলি ১–৩০) তুললে জবাবে অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয়ে যায় মাত্র ১০৮ রানে (ক্যামেরন গ্রিন ৩৫; আবরার আহমেদ ৩–১৪, শাদাব খান ৩–২৬, উসমান তারিক ২–১৬)।
হঠাৎ পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান বাতিল, জল্পনা তুঙ্গে