আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ও ভূমিদস্যুদের সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য হাসিনা রওশন জাহানের বিরুদ্ধে রাজধানীর শ্যামপুর এলাকার পোস্তগোলা, আইলবহর মৌজার ৩৯ শতাংশ জমি মিথ্যা ও জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের পায়তারা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রাজধানীর শ্যামপুর আইলবহর মৌজার আরএস ৬৪৮ দাগে মোট ৩ একর ৩৮.২০ শতাংশ জমির ক্রয়সূত্রে ও রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন বাদশা মিয়া। এসএ ও আরএস রেকর্ডেও বাদশা মিয়ার নামই রয়েছে। বয়োবৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে সম্পত্তি হাতানোর বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে ভূমিদস্যুদের সংঘবদ্ধ চক্রের প্রধান হযরত আলী। ৬৪৮ দাগের মোট ৩ একর ৩৮.২০ শতাংশ জমির মধ্য থেকে ৩৯ শতাংশ জমি সিটি জরিপের কৌশলে হযরত আলীর নামে নামজারি করে নেয়।
২০১৭ সালে বাদশা মিয়ার ওয়ারিশরা সিটি জরিপ সংশোধনের মামলা দায়ের করেন, যার নম্বর ২৪১/২০১৭।
হযরত আলী মারা যাওয়ায় মামলার বিবাদী হন তার স্ত্রী হাসিনা রওশন জাহান। বিগত পতিত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের প্রভাব খাটিয়ে আদালতে প্রভাব বিস্তার করে সময়ক্ষেপণ করার অভিযোগ করেছেন বাদশা মিয়ার ওয়ারিশরা।
২০২০ সালে করোনার লকডাউনের সময়, যখন বাসা থেকে বের হওয়া নিষেধ ছিল, তখন হযরত আলীর স্ত্রী হাসিনা রওশন জাহান তার আওয়ামী লীগ প্রভাব খাটিয়ে ৩৯ শতাংশ জমির কিছু অংশ দখল করে ৮টি দোকানঘর নির্মাণ করেন। সিটি জরিপ সংশোধনের মামলায় সময় চেয়ে দরখাস্ত দিয়ে আট বছর পার করেন।
এখন এই চক্রের হাত থেকে রেহাই পেতে একাধিক মানববন্ধন করেছেন বলে অভিযোগ করেন বাদশা মিয়ার ওয়ারিশরা—মো. রাসেল, মো. মিতুন, মো. রতন ও মো. হিরু মিয়া। তারা বলেন, আমরা নিরীহ হওয়ায় হাসিনা রওশন জাহান চক্র নানাভাবে আমাদের হুমকি দিচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, হাসিনা রওশন জাহান চক্র কয়েক কোটি অবৈধ টাকার মালিক। হাসিনা রওশন জাহানের স্বামী হযরত আলী ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জালিয়াতির মাধ্যমে জমি দখল করাকেই পেশা ও দৈনন্দিন কর্ম হিসেবে নিয়েছিলেন।
আওয়ামী আমলে প্রভাব খাটিয়ে হাসিনা রওশন জাহান চক্র মামলাটি আট বছর আটকে রেখেছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মামলার রায় বাদশা মিয়ার ওয়ারিশ মো. রাসেল, মো. মিতুন, মো. রতন ও মো. হিরু মিয়ার পক্ষে আসে।
মো. রাসেল বলেন, হাসিনা রওশন জাহান চক্র এখন আবার সক্রিয় হয়ে আপিল করে আরও ১০ বছর সময় নষ্ট করার পায়তারা করছে। আমরা এই অন্যায়ের বিচার চাই।
জানা গেছে, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে হাসিনা রওশন জাহান চক্র গড়ে তোলে ভূমিদস্যু ও জাল-জালিয়াতির বিশাল সিন্ডিকেট। সময়ের ব্যবধানে তিনি নিজেই হয়ে ওঠেন একজন ভূমিদস্যু ও জাল-জালিয়াতির সম্রাট। গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়।
এলাকায় সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তিরা হাসিনা রওশন জাহান চক্র সম্পর্কে বলেন, ভূমিদস্যু দালাল কামরুল অনেকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন—এ খবর আমরা পেয়েছি। তিনি এলাকার নিরক্ষর লোকদের জায়গার দলিলাদি নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন। ভূমি কার্যালয়ে দৌড়াদৌড়িই তার কাজ।
এ ব্যাপারে কথা বলতে অভিযুক্ত হাসিনা রওশন জাহানের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া যায়।
