ডা. শফিকুর রহমান

এবারের নির্বাচন জাতির কিসমত উপযুক্ত রাস্তায় দাঁড় করিয়ে দেয়ার

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:০১ পিএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। এ নির্বাচন জাতির কিসমতকে সঠিক রাস্তার ওপর দাঁড় করিয়ে দেওয়ার নির্বাচন। এই ভোটের মাধ্যমে দেশ আজাদী না কি গোলামির পথে যাবে সেই সিদ্ধান্ত হবে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ মাঠে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ একটি সম্পদসমৃদ্ধ দেশ। উর্বর মাটি, পরিশ্রমী মানুষ, পানি ও ভূগর্ভে বিপুল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও দেশ আজও সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। ১৯৪৭ ও ১৯৭১—দুইবার স্বাধীনতা অর্জনের পরও ৭৭ বছরে জাতি কাঙ্খিত গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। এর জন্য দায়ী অসৎ ও ধোঁকাবাজ নেতৃত্ব, যারা জনগণকে বোকা বানিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করেছে।

তিনি বলেন, দেশের পাসপোর্টের মর্যাদা আজ দুর্বল। অনেক জায়গায় দেশের পরিচয় দিতে মানুষ লজ্জাবোধ করে। এই অবস্থার জন্য দায়ী বিগত ৫৪ বছরের ব্যর্থ নেতৃত্ব।

ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমীর বলেন, এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর কৃষিতে বিপ্লব হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় বাজেট ও জনবল না থাকায় সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। তারপরও এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশকে অনেক কিছু দিয়েছে। তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ১২ তারিখ থেকে জনগণের ভোটে যদি ইনসাফের পক্ষে রায় আসে এবং ১১ দল দেশ সেবার সুযোগ পায়, তবে এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতি গড়তে হলে মানসম্মত শিক্ষা প্রয়োজন। অথচ বাজেটে শিক্ষাকে অবহেলা করা হয় এবং দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে অসৎ লোকদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। ফলে শিক্ষা ও গবেষণা খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের টাকা লুট করে যারা বিদেশে আরাম-আয়েশে বসবাস করছে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। চোরদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। ক্ষুধার তাড়নায় যারা ছোটখাটো অপরাধে জড়ায়, তাদের নয় বড় লুটেরাদের ধরতে হবে।

জামায়াত আমীর বলেন, দেশের যুবক-যুবতী, তরুণ সমাজ, এমনকি মা-বোন ও শিশুরাও পুরোনো রাজনীতি আর চায় না। তারা পরিবারতন্ত্র, দলীয় দখলদারিত্ব ও ধান্দাবাজ রাজনীতির বাইরে একটি নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে দুটি মূল্যবান ভোট রয়েছে। প্রথম ভোট হবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’। হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামি। জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ন্যায়ের পক্ষে, ইনসাফের পক্ষে থাকার।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমীর ও সদর-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুল। সঞ্চালনা করেন মহানগর সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও প্রচার-মিডিয়া সেক্রেটারি এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঞ্জরুল ইসলাম ভূঁইয়া। এছাড়াও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিশের ময়মনসিংহ জেলা আমীর মাওলানা নজরুল ইসলাম, ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন আসনের প্রার্থী ও জামায়াতের কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত