‘চিকেন নেক’ করিডোরে রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা ভারতের

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

উত্তর-পূর্ব ভারতকে মূল ভূখণ্ডের সাথে সংযুক্তকারী সংকীর্ণ শিলিগুড়ি করিডরে (চিকেনস নেক) ভূগর্ভস্থ রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ভারত। 

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই ঘোষণা দেন। অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত এই ভূ-কৌশলগত করিডরটি সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থানে মাত্র ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার চওড়া। এটি ভারতের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ কৌশলগত অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। করিডরটির একপাশে নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের অবস্থান। অন্যদিকে রয়েছে চীন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন এক সময়ে যখন বাংলাদেশের কিছু মহল থেকে প্রকাশ্যে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিচ্ছিন্ন করতে ‘চিকেনস নেক চেপে ধরা’র কথা বলা হচ্ছে। কেউ কেউ এই অঞ্চলকে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ ধারণার অংশ হিসেবেও তুলে ধরছে। তিস্তা নদী প্রকল্পে ঢাকার সঙ্গে চীনের যোগাযোগও ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব বক্তব্যের পেছনে একটি সুস্পষ্ট ভূরাজনৈতিক কৌশল কাজ করছে।

কেন্দ্রীয় বাজেটে রেল মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ নিয়ে ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্তকারী ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কৌশলগত করিডরের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এখানে ভূগর্ভস্থ রেললাইন নির্মাণ এবং বিদ্যমান রেলপথকে চার লাইনে উন্নীত করার কাজ চলছে।

নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের (এনএফআর) মহাব্যবস্থাপক চেতন কুমার শ্রীবাস্তব জানান, পশ্চিমবঙ্গের তিন মাইল হাট থেকে রাঙাপানি স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে এই ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মিত হবে। নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে এই অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভারতের কাছে শিলিগুড়ি করিডর দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত। ২০১৭ সালের ডোকলাম সংকটের সময় সামরিক পরিকল্পনাকারীরা এই অঞ্চলের ভঙ্গুরতার কথা প্রকাশ্যে বলেন। এখানে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই উত্তর-পূর্বাঞ্চল কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে এবং যোগান ব্যবস্থা ও সেনা চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য সেই পুরোনো আশঙ্কাকেই আবার উসকে দিয়েছে এবং শক্তিশালী অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। রেললাইন ভূগর্ভে নিয়ে যাওয়া এবং পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে নয়াদিল্লি সংকটকালেও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করতে চায়। ভারত বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রতিবেশী ও বাণিজ্যিক অংশীদার।

তবুও ‘চিকেনস নেক’-এর প্রতীকী গুরুত্ব প্রবলভাবেই রয়ে গেছে। এটি দক্ষিণ এশিয়ার নাজুক নিরাপত্তা বাস্তবতায় এর ভৌগলিক অবস্থা যেন এক ধরনের কৌশলগত অস্ত্রে পরিণত হতে পারে বলেই মনে করিয়ে দেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত