নওগাঁ সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে থেকে এক রাজস্ব কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে তার লাশ ফেলে রেখে যায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা। ওই রাজস্ব কর্মকর্তার নাম জোনায়েদ আহম্মেদ (৩৮)। তিনি এআরও পদে ঢাকার এয়ারপোর্ট কাস্টম হাউসে কর্মরত ছিলেন।
জোনায়েদ হোসেনর বাড়ি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে। তার স্ত্রী নাঈমা নার্গিস নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোরে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা একটি পিকআপে করে জরুরি বিভাগের সামনে এসে জোনায়েদ হোসেনের মরদেহ রেখে দ্রুত পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আবু জার গাফফার জানান, হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ওয়ার্ড মাষ্টার কবির হোসেনকে এক ট্রলিম্যান সংবাদ দিলে তাকে উদ্ধার করে জরুরী বিভাগে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। মরদেহটির বুক ও দুই পায়ের হাড়ের বিভিন্ন স্থান ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে সড়ক দূর্ঘটনার মারা গেছেন।
নিহতের স্ত্রী জানায়, ঢাকা থেকে নওগাঁর মহাদেবপুরে স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে দেখা করার জন্য যাচ্ছিলেন জোনায়েদ হোসেন। গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে তিনি বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনে নেমে তার স্ত্রীকে জানায় ট্রেন থেকে নেমেছে। এরপর থেকে আর যোগাযোগ করতে পারেনী পরিবার। মুঠোফোনে বারবার কল দিলেও কল গেলেও রিসিভ করা হচ্ছিল না। ভোরে পুলিশের মাধ্যমে তার স্বমীর মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন।
নওগাঁ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিয়ামুল ইসলাম দেশ রুপান্তরকে জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সংবাদে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের মরদেহ ময়ানাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিহতের স্ত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি এক্সিডেন্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে।
