নড়াইলে জামায়াত আমির

‘দুই স্বাধীনতার পরও পূরণ হয়নি জনগণের আকাঙ্ক্ষা’

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:০২ এএম

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দুইবার স্বাধীনতা অর্জিত হলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক নেতৃত্বে যদি সততা ও সদিচ্ছা থাকে, তাহলে একটা সমাজ পাল্টাতে সময় লাগে না। কিন্তু যদি রাজনৈতিক নেতৃত্বে অসৎ হয় এবং সদিচ্ছার অভাব হয়, এই সমাজের দুর্গতি দিনের পর দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। আমাদের দুই স্বাধীনতার পরেও জনগনের আকাঙ্খা পূরণ হয়নি।’

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সকলের জন্য নিরাপদ ও গর্বের বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা শুধু জামায়াত বা দাঁড়িপাল্লার বিজয় নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় দেখতে চাই। রাজনীতিকে যারা ব্যবসার পণ্য করে তারা কখনো দেশকে গড়ে তুলতে পারবে না। আর পুরানো রাজনীতিতে ফিরে যেতে চাই না। পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে পাল্টে দিতে চাই। আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই।’

দেশের রাজনৈতিক অচলায়তন ভাঙার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এই বাংলাদেশ এখন স্বস্তির নিশ্বাস চায়, আর পুরনো রাজনীতিতে ফিরে যেতে চায় না। এই পুরনো রাজনীতি বাংলাদেশকে আগাইতে দেয় নাই। পায়ে জিঞ্জির দিয়ে আটকে রেখেছে। সামনে দৌড়ানোর সুযোগ দেয় নাই। আমরা সেই বাংলাদেশকে আল্লার উপর ভরসা করে পাল্টে দিতে চাই। আমরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সরকার গড়তে চাই না, আমরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিজয়ও চাইনা, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।’

নির্বাচনী প্রচারণা ও জননিরাপত্তা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনারা ইনসাফের প্রতীক দাড়িপাল্লার পক্ষে থাকবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটে হ্যা এবং জামায়াতের ইসলামীসহ ১১ দলীয় প্রার্থীদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। দাঁড়িপাল্লার বিজয়ে মর্যাদার সঙ্গে বোনেরা-মায়েরা ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে, সব জায়গায় নিরাপদ থাকবেন। অন্যায়কারী যিনি হোন না কেন তাকে আইনের আওতায় শাস্তি পেতে হবে।’

জনসভায় নড়াইলের স্থানীয় উন্নয়নের বিভিন্ন দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন তিনি। প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে নড়াইল-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা মো. ওবায়দুল্লাহ কায়সার এবং নড়াইল-২ আসনের প্রার্থী মো. আতাউর রহমান বাচ্চুর হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন।

এর আগে, জুমার নামাজের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতা-কর্মীরা জনসভাস্থলে ভিড় করতে থাকেন। বরিশালের কর্মসূচি শেষ করে জামায়াত আমির হেলিকপ্টারযোগে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্টেডিয়ামে পৌঁছালে প্রশাসন ও দলীয় স্বেচ্ছাসেবকদের কড়া নিরাপত্তায় তাকে সভাস্থলে আনা হয়। দলীয় প্রধানের এই সফরে নড়াইলের নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত