যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার তার নেতৃত্বের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মুখোমুখি রয়েছেন। লেবার পার্টির ভেতরে এবং জনগণের মধ্যে উভয় দিক থেকে তার ওপর চাপ বাড়ছে। কিছু এমপি মনে করছেন তার পতন অনিবার্য হতে পারে, তবে নাম্বার ১০ থেকে তার সরাসরি পদত্যাগ এখনো নিশ্চিত নয়।
চাপের একটি বড় অংশ লর্ড ম্যান্ডেলসনের যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিযুক্তি সংক্রান্ত আসন্ন নথিপত্র প্রকাশ। যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের নথিতে নাম থাকার কারণে ম্যান্ডেলসনকে ঘিরে বিতর্ক রয়েছে । বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) স্টারমার এ প্রসঙ্গে বক্তব্য দিয়ে এপস্টেইনের যৌন নিপীড়নের শিকারদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগে ম্যান্ডেলসনের মিথ্যা কথাকে বিশ্বাস করে তাকে যুক্তরাজ্যের শীর্ষ কূটনৈতিক পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
একাধিক সাংবাদিক প্রশ্নের মুখে পড়ে স্টারমার স্বীকার করেন, লেবার পার্টির এমপিরা তার প্রতি ‘ক্ষুব্ধ এবং হতাশ’, এবং তিনি এ কথা বুঝতে পারছেন। লেবার এমপিরাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন। বর্তমানে এমপিরা স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ক্ষিপ্ত।
নির্বাচনী চাপও তার অবস্থাকে জটিল করছে। ওয়েলস, স্কটল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে লেবার পার্টির দুর্বল ফলাফলের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধান আসন হারানো বা ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের পেছনে থাকা এমপিদের উদ্বিগ্ন করতে পারে এবং নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবিও বাড়াতে পারে। লেবার এমপি র্যাচেল মাসকেল, যিনি আগেও কল্যাণ তহবিল কাটছাঁট নিয়ে স্টারমারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন, এবারও তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্টারমারের অবস্থান টেকসই নয় এবং তাকে পদত্যাগ করা উচিত। বিবিসি রেডিও ইয়র্ককে তিনি জানিয়েছেন, ‘আমি মনে করি না, তাঁর কাছে কোনো বিকল্প উপায় আছে।’
তবে লেবার পার্টির কাছে নেতাকে দ্রুত অপসারণ করার কোনো সরাসরি ব্যবস্থা নেই, তবে আস্থা ভোট, সিনিয়র নেতাদের সমন্বিত চাপ বা মন্ত্রিসভা পদত্যাগের মতো পদক্ষেপ স্টারমারের ক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারে। তবে এখনো কোনো স্পষ্ট উত্তরাধিকারী সামনে আসেনি এবং যেকোনো পরিকল্পিত পদক্ষেপ সময়সাপেক্ষ।
এই মুহূর্তে স্টারমারের অবস্থান সঙ্কটে। তবে যদি তিনি মে মাসের নির্বাচনে বড় কোনো ক্ষতি ছাড়া বেঁচে যান এবং পার্টির ভেতরের বিতর্ক দক্ষভাবে সামলান, তবে তিনি তার প্রধানমন্ত্রীত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হবেন।
