পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক জামায়াত কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা মারধরের শিকার হওয়া ব্যক্তিকে হুইলচেয়ারে করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। এ ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যপক সমালোচনা শুরু হয়। ভুক্তভোগি ওই ব্যক্তির নাম রিপন রানা। তিনি জামায়াতে ইসলামীর কর্মী এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বোদা পৌর শাখার সভাপতি।
ভাইরাল হওয়া সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, শুক্রবার রাত ১২-৪২ মিনিটের দিকে অন্তত ২৭ ব্যক্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের হাতে লাঠি ছিল। রাত ১২-৪৫ মিনিটের দিকে সাত থেকে আটজন ব্যক্তি রিপন রানাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যান। এ সময় একজনকে লাঠি উঁচিয়ে আঘাতের প্রস্তুতি নিতে দেখা যায়। পরে হাসপাতালের বাইরের সড়কে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সময় ফুটেজে দেখা যায়, কিছুক্ষণ পর দুইজনের কাঁধে ভর দিয়ে খুঁড়িয়ে রিপনকে জরুরি বিভাগের দিকে আসছে। পরে একটি হুইলচেয়ারে বসিয়ে তাকে ভেতরে নেওয়া হয়।
এ ঘটনার শিকার রিপন রানা অভিযোগ করেন, শুক্রবার পাঁচপীর এলাকায় জামায়াতের একটি নির্বাচনী সভা চলাকালে বিএনপির লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। ওই ঘটনায় কয়েকজন আহত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। তাদের দেখতে তিনি হাসপাতালে গেলে ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে পুরুষ ওয়ার্ডে ঢুকে তাকে টেনে নিচে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন। হামলায় জড়িতরা বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন, তবে তিনি কারো নাম বলতে পারেননি। হামলায় মাথা, কপাল, নাক ও হাঁটুতে আঘাত পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
এই বিষয়ে জানতে বোদা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম মালিককে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেন নি। বোদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রেজওয়ানুল হক মন্ডল বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজটি আমিও দেখেছি। তবে সেটি অস্পষ্ট মনে হয়েছে। ভিডিওটি সম্ভবত কাটাকাটি করা। একজন ব্যক্তিকে জোর করে বের করে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর অন্যের কাঁধে ভর দিয়ে খুঁড়িয়ে হাসপাতালের দিকে হেঁটে আসার বিষয়টি কেন গুরুত্ব পাচ্ছে না এমন প্রশ্নে পরিদর্শক (তদন্ত) বলেন, প্রশাসনিক বিষয়াদি ওসি দেখেন। এই বিষয়ে মন্তব্য নিতে ওসির সাথে কথা বলার অনুরোধ জানান তিনি।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে পাঁচপীর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভা ও বিএনপির মিছিলকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর ওই ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা পাঁচপীর থেকে ফিরে সাকোয়া এলাকায় এশিয়ান হাইওয়ে অবরোধ করে। পরে যৌথ বাহিনী গিয়ে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
