প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে হারের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরেক শক্ত প্রতিপক্ষের মুখে পড়ছে আফগানিস্তান। বুধবার আহমেদাবাদে তাদের সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা—যাদের বিপক্ষে হার মানেই কার্যত শেষ হয়ে যেতে পারে আফগানিস্তানের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ব্যাটিং ও ফিল্ডিং—দুই বিভাগেই ভুগেছে আফগানিস্তান। রশিদ খানের নিজের বোলিংয়ে টিম সাইফার্টের ক্যাচ ফসকে যাওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেই হারের ফলে গ্রুপ পর্বেই এখন তারা ‘ডু-অর-ডাই’ পরিস্থিতিতে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারলে, বাকি দুই ম্যাচ—কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে জিতলেও সুপার এইটে ওঠা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
পরিসংখ্যানও আফগানিস্তানের বিপক্ষে কথা বলছে। টি–টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনবার মাঠে নেমেই হেরেছে তারা। সবচেয়ে হতাশাজনক স্মৃতি ২০২৪ বিশ্বকাপের ম্যাচটি—যেখানে মাত্র ৫৬ রানে অলআউট হয়ে যায় আফগানিস্তান এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ৯ উইকেট হাতে রেখেই ম্যাচ শেষ করে।
অন্যদিকে, কানাডার বিপক্ষে দাপুটে জয়ে দারুণ ছন্দে রয়েছে প্রোটিয়ারা। অধিনায়ক এইডেন মার্করামের হাফ-সেঞ্চুরির পর ডেভিড মিলার ও ট্রিস্টান স্টাবস শেষ দিকে অপরাজিত ৭৫ রানের জুটিতে দলকে টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান এনে দেন। বল হাতে লুঙ্গি এনগিডির চার উইকেট দক্ষিণ আফ্রিকার জয়কে আরও সহজ করে দেয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ে বিশেষ নজর থাকবে কুইন্টন ডি ককের দিকে। টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফেরার পর ১১ ইনিংসে পাঁচবার এক অঙ্কের ঘরে আউট হলেও, এই সময়ে তার মোট রান ৩৫৫, গড় ৩২.২৭ এবং স্ট্রাইক রেট ১৮১.১২। ভারতের কন্ডিশনে তার সামগ্রিক রেকর্ডও যথেষ্ট ভালো, যা আফগান বোলারদের জন্য বড় সতর্কবার্তা।
আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় ভরসা রশিদ খানই। ২০২৪ সালের শুরু থেকে পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর বিপক্ষে ২৬টি টি–টোয়েন্টিতে তিনি নিয়েছেন ৫২ উইকেট। এই সময়ে তার স্ট্রাইক রেট ১১.৩ এবং ইকোনমি ৫.৮৩—যা ক্যারিয়ার গড়ের চেয়েও ভালো। আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে তার মোট উইকেট সংখ্যা এখন ৭০০ থেকে মাত্র তিনটি দূরে। সুপার এইটের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে অধিনায়কের কাছ থেকেই চাই ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স।
আফগানিস্তানের বোলিং বিভাগে পরিবর্তনের ইঙ্গিতও মিলছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ওভারে ৩৩ রান দিয়ে কোনো উইকেট না পাওয়া জিয়াউর রহমানের জায়গায় একাদশে ফিরতে পারেন বাঁহাতি স্পিনার নূর আহমদ। তার সঙ্গে স্পিন আক্রমণে থাকবেন মুজিব উর রহমান ও রশিদ খান।
দক্ষিণ আফ্রিকাও দল সাজানোয় সামান্য রদবদল করতে পারে। অতিরিক্ত একজন স্পিনার হিসেবে জর্জ লিন্ডেকে দলে নেওয়ার কথা ভাবছে টিম ম্যানেজমেন্ট। সেক্ষেত্রে পেস আক্রমণ থেকে একজনকে বাইরে বসতে হতে পারে।
ম্যাচটি শুরু হবে স্থানীয় সময় সকাল ১১টায়। আহমেদাবাদের লাল-মাটির উইকেটে সাম্প্রতিক পাঁচটি টি–টোয়েন্টিতে প্রথম ইনিংসের গড় স্কোর ২১৭। আইসিসি টুর্নামেন্টে উইকেট কিছুটা ব্যাটিংবান্ধব না হলেও, রানের বন্যার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দিনের খেলায় শিশিরের প্রভাবও থাকবে না, ফলে টস জিতে আগে ব্যাটিং করা দল বড় স্কোর গড়ার দিকেই তাকাবে।
উইকেট ও কন্ডিশন নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা পছন্দ করছেন না দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার ট্রিস্টান স্টাবস। “সত্যি বলতে, ম্যাচের আগে কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারে না উইকেট কেমন আচরণ করবে। সবাই শুধু নিজের মতামত দেয়। এখন তো প্রায় সব আলোচনাই উইকেট ঘিরে। কিন্তু আমরা নিজেদের স্কিল নিয়েই বেশি ভাবি এবং সেই স্কিল দিয়েই ম্যাচ খেলতে চাই।”
দিনের ম্যাচ মানেই স্পিনারদের জন্য সহায়ক উইকেট—এই ধারণার বিরুদ্ধেও মত তার। স্টাবস বলেন, “আমি এখানে আগে দিনের ম্যাচ খেলেছি। আমরা তখন ২০০-এর বেশি রান করেছিলাম, আর প্রতিপক্ষ সেটি তাড়া করে জিতে যায়। তাই সবাইকে স্পিন উইকেট ধরে নেওয়ার দরকার নেই। এটা খুব ভালো ব্যাটিং উইকেটও হতে পারে—সেই সম্ভাবনাও আছে।”
ফর্ম বিবেচনায় আফগানিস্তান শেষ পাঁচ ম্যাচে দুটি জয় ও তিনটি হার। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ পাঁচ ম্যাচের তিনটি জয়, দুটি হার। কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে আফগানিস্তানের স্পিন আক্রমণ প্রোটিয়াদের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।
