রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবারের নির্বাচন নিয়ে দেশের আপামর জনসাধারণের মতো খুব একটা জমে ওঠেনি দেশের শোবিজ অঙ্গন। বলা চলে, দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছেন শোবিজ তারকারা। একদল ভোট নিয়ে কোনো আগ্রহই দেখাচ্ছেন না, আরেকদল বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। এরই মধ্যে বিএনপি সমর্থিত তারকাশিল্পীরা বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। কয়েক দিন ধরে প্রকাশ্যে ধানের শীষের প্রচারণাও চালিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যে।
শোবিজের বিভিন্ন অঙ্গনের তারকাদের সঙ্গে কথা বলে জানা জানা গেছে শাকিব খান, জয়া আহসান, অপু বিশ্বাসদের মতো আলোচিত তারকারা ইচ্ছে থাকার পরও ভোট দিতে পারছেন না। জয়া আহসান বর্তমানে অবস্থান করছেন কলকাতায়। তিনি বারিধারা এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি ঢাকা ১৭ আসনের ভোটার। জয়া বলেন, চেষ্টা করব ভোটের আগে ঢাকায় আসার। তবে সম্ভাবনা খুব কম।
অন্যদিকে বেশ কিছুদিন ধরেই গণমাধ্যমের সঙ্গে এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় আগ্রহ নিয়ে কথা তরুণ অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। তিনি বলেছেন ‘আমি দেশের একজন সচেতন নাগরিক। ভোট দেওয়া নাগরিক অধিকার। এই অধিকার প্রয়োগ করতে আমি ভোটকেন্দ্রে যাব। কারণ আমরা পরিবর্তন চাই, আর পরিবর্তন হয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে। ভোটে অংশ নিয়েই পরিবর্তনের আপাতত শুরু হোক।’
চিত্রনায়িকা আইরিন সুলতানা ধানমন্ডির ভোটার। এই অভিনেত্রী বলেন, ‘ধানমন্ডি মূলত ঢাকা-১০ আসনের আওতায়। বারবারই উৎসাহ নিয়ে ভোট দিয়েছি। এবারও যাব। দেশের নাগরিক হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করব। বিজয়ীদের প্রতি চাওয়া থাকবে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সহজ ও নিরাপদ হবে। সকলের কাজের সুযোগ বাড়বে। একজন নাগরিক হিসেবে এটুকুই চাওয়া।’
ছোট পর্দার উঠতি তারকা তাহমিনা অথৈ বললেন, ‘আমি কুমিল্লার মেয়ে। অধিকাংশ সময় থাকা হয় ঢাকায়। কিন্তু ভোটার চট্টগ্রামের। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ভোট দিতে যাব। আমি চাই সুস্থভাবে নির্বাচন হোক। দেশের মানুষের মঙ্গল হোক। দেশে শান্তি বিরাজ করুক।’
অন্যদিকে নওগাঁর ভোটার তরুণ অভিনেত্রী ও উপস্থাপক সাদিয়া রশ্মি সূচনা। তিনি বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই ভীষণ সংস্কৃতিমনা। প্রত্যাশা করব নির্বাচনের পরেও দেশে সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত থাকবে। যদিও দেশে এক ধরনের অস্থির অবস্থা বিরাজ করছে। তবুও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় থাকবে বলে বিশ্বাস করি। আরও প্রত্যাশা করি আমরা দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সম্মান করব।’
সঞ্চালক নাহিদা আফরোজ সুমীর কথায়, ‘আমি পাথরঘাটার ভোটার। যারাই আসুক তারা দেশ ও জনগণের জন্য যেন আন্তরিকভাবে কাজ করে এটাই চাই। একটি দেশের মূল হচ্ছে সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতিকে শক্ত হাতে ধরে রাখতে হবে। যাতে শিল্পীরা নির্বিঘেœ কাজ করতে পারে। নবনির্বাচিত সরকার এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা করি। দেশ এখন অনেক এগিয়েছে। নারী-পুরুষ আলাদা করার সুযোগ নেই। যারা সরকার গঠন করবেন তারা জনগণের জন্য কাজ করবেন আশা করি। এখানে নারী ও পুরুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করবেন না। জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া তাদের নৈতিক দায়িত্ব।’
উত্তরার ভোটার আরেক তরুণ উপস্থাপক তাসনুভা মোহনা। তিনি বলেন, ‘আগে প্রার্থীদের দেখব। তারপর যাকে মনে হবে তুলনামূলক ভালো; ভোট তাকেই দেব। অর্থাৎ যাকে যোগ্য প্রার্থী মনে হয় আমার ভোট থাকবে তার ব্যালটে। এবার দেশের প্রধান একটি রাজনৈতিক দল অনুপস্থিত। একটি দল সদ্য তার চেয়ারপারসনকে হারিয়েছে।
আরেকটি দল নেতিবাচকভাবে আলোচনায় আছে। সবকিছু মিলে বাংলাদেশের নাজুক অবস্থা। প্রতিটি বিষয়ই অনিশ্চিত। সঙ্গে যোগ হয়েছে গণভোট। চাইব সুষ্ঠু ও সুস্থ নির্বাচন হোক।’
