কাতারকে সামরিক ঢাল হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৪০ পিএম

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলছে তীব্র উত্তেজনা। যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিলেও ইরানে হামলার বিষয়ে সিন্ধান্ত নিতে পারেনি। তবে ইতোমধ্যে বেশ কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। শেষ খবরে জানা গেছে চলমান তীব্র উত্তেজনা ও ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তার উদ্বেগের মধ্যে বন্ধুপ্রতিম দেশ কাতারে শক্তিশালী মোবাইল মিসাইল লঞ্চার মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে কাতারকে একটি দুর্ভেদ্য সামরিক ঢাল হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে মার্কিন বাহিনী। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগনের উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মূলত মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করা এবং সম্ভাব্য যেকোনো ইরানি হামলা মোকাবেলায় ওয়াশিংটন এ পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত পাঁচটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং কয়েক শ রণতরী সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছে। 

গত ২০২৫ সালের জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে চলা সংঘাতের সময় ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কাতারের মার্কিন ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, যা বর্তমান এই নতুন সামরিক বিন্যাসের অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে-ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং তুরস্কে সেনাঘাঁটি থাকলেও কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটিটি আয়তন ও গুরুত্বের দিক দিয়ে সবচেয়ে বড়। পেন্টাগন এই সর্ববৃহৎ ঘাঁটিটিকেই মোবাইল মিসাইল লঞ্চার মোতায়েনের জন্য বেছে নিয়েছে। 

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গত দুই দশক ধরে চলা বিরোধ ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর চরম আকার ধারণ করেছিল। ২০২৪ সালে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর সেই বৈরিতা নতুন মাত্রা পায় এবং ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চললেও দেশ দুটির কূটনৈতিক সম্পর্কের কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয় গত ডিসেম্বরে ইরানে ব্যাপকমাত্রায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে। ইরান এই বিক্ষোভের পেছনে পশ্চিমাদের উসকানি রয়েছে বলে অভিযোগ তুললে পুনরায় সামরিক উত্তজনা চড়তে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে আরব সাগরে বিশাল বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন'সহ বেশ কয়েকটি শক্তিশালী রণতরী মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। 

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, কাতারে এই উন্নত মিসাইল সিস্টেম মোতায়েন কেবল প্রতিরক্ষামূলক নয়, বরং এটি ইরানের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এটিই স্পষ্ট করল যে, আল-উদেইদ ঘাঁটির ওপর যেকোনো হামলার তাৎক্ষণিক ও বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে। 

মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিবেশে কাতারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার রাষ্ট্রে এ ধরনের সমরাস্ত্র মোতায়েন পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ওয়াশিংটন এবং তেহরান- উভয় পক্ষই বর্তমানে যুদ্ধের চেয়ে ‘শক্তির মহড়া’র ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত