নির্বাচনী দায়িত্বে অনিয়ম উদ্ঘাটন: জিরো টলারেন্স নীতিতে কঠোর অবস্থান আনসার ও ভিডিপির

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা অটুট রাখা এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার নির্বিঘ্নে নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্বগুলোর একটি। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সর্বজনগ্রাহ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী গত দেড় বছর ধরে বিস্তৃত ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিকে সামনে রেখে এই প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক এক ঘটনায় বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে দুর্নীতির একটি অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, হাতিরঝিল থানার ২২ নং ওয়ার্ডের টিডিপি দলনেতা মামুন জনপ্রতি ৪০০ টাকার বিনিময়ে ভুয়া সনদ তৈরি করে প্রশিক্ষণবিহীন ৩৩০ জনকে নির্বাচনী ডিউটিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। পরবর্তীতে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলে জনপ্রতি ১,১০০ টাকা করে উৎকোচ গ্রহণের তথ্যও পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত ওয়ার্ড দলনেতা মামুন, জঘন্য এই কর্মকান্ডের পর হতে পলাতক রয়েছে। স্হানীয় থানায় সাধারন ডাইরী দায়ের করা হয়েছে এবং দৃষ্টান্তমূলক আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে।

নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে বাহিনী আধুনিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়েছে। সংশোধিত সিলেবাস অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনে তারুণ্য ও দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে AVMIS সফটওয়্যারের মাধ্যমে কেবল প্রকৃত ও বৈধ সনদধারীদের দায়িত্বে নিয়োগ নিশ্চিত করা হচ্ছে। জাল সনদ শনাক্ত, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং ঘুষ–বাণিজ্য বন্ধে নজরদারিও আরও জোরদার করা হয়েছে।

মহাপরিচালক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করে স্পষ্টভাবে নির্দেশনা প্রদান করেছেন—শুধু শারীরিক সক্ষমতা নয়, বৈধ সনদ ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতাই নির্বাচনী দায়িত্বের প্রধান শর্ত। কারণ একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেশ ও জনগণের প্রতি অর্পিত পবিত্র আমানত।

দেশব্যাপী প্রস্তুতিমূলক সমাবেশগুলোতেও একই বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেখানে সতর্ক করে বলা হয়েছে, অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে এবং প্রচলিত আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

বর্তমান প্রশাসন জানিয়েছে, ভুয়া সনদধারী, অযোগ্য বা প্রভাবিত ব্যক্তির মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়া কিংবা রাষ্ট্রীয় আমানতকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই কঠোর ও স্বচ্ছ অবস্থান শুধু বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা জোরদার করছে না, বরং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে জনআস্থা, প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা এবং সামগ্রিক জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো আরও দৃঢ় করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত