আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা–৪ (দেবিদ্বার) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহকে পরাজিত করতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সরাসরি মাঠে নেমেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা বিতরণ ও ভোট কেনার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
একাধিক সূত্র জানায়, গত ৯ জানুয়ারি দেবিদ্বার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের গোপালনগর ঈদগাহ মাঠে ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জনগণের অর্থ পাচারকারী ও ব্যাংক লুটেরাদের দিন শেষ। যারা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে বিলাসী জীবনযাপন করছে, সেই ঋণখেলাপিদের বাংলাদেশের সংসদে আর জায়গা দেওয়া হবে না। আগামী দিনের সংসদ পরিচালিত হবে ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে।
হাসনাতের এই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে তার প্রতিপক্ষকে জেতাতে মাঠে নেমেছেন একই আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ। সূত্র জানায়, নিজ ইউনিয়ন বরকামতা, মোহনপুরসহ আশপাশের পাঁচটি ইউনিয়নে ভোট ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি আবুল কালাম আজাদ ‘ট্রাক’ প্রতীককে জয়ী করতে থানা থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। অনলাইন গ্রুপে বার্তা দিয়ে জানানো হয়-ট্রাক প্রতীক জয়ী হলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা সকল মামলা থেকে মুক্তির ব্যবস্থা করা হবে। সূত্র নিশ্চিত করেছে, এমন নির্দেশ পাওয়ার পর থেকেই স্থানীয় আওয়ামী সমর্থকেরা সক্রিয় হয়ে ওঠে।
এদিকে ভোট কেনার অভিযোগও উঠেছে আবুল কালাম আজাদ ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ভোটার জানান, ১০ ফেব্রুয়ারির পর থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটের বিনিময়ে ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন।
এক ভোটার বলেন, ট্রাক মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য ভোটের আগের দিন রাতে তিন হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
আরেক ভোটার বলেন, আমি প্রচারণায় গিয়েছিলাম, আমাকে দেড়শ টাকা দেওয়া হয়েছে। ভোটের আগে আড়াই হাজার টাকা দেওয়ার কথাও বলেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জানুয়ারি ঋণখেলাপির তথ্য গোপনের অভিযোগে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এরপর কিছুদিন নীরব থাকলেও গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বিএনপির সমর্থকেরা ২০ দলীয় জোটের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিনের পক্ষে মাঠে নামেন।
