রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা–১২ আসনকে ঘিরে এবার তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী রাজনৈতিক সমীকরণ। ধানের শীষ প্রতীক না থাকলেও বিএনপি–সমর্থিত জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত সাইফুল আলম নীরব। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলনও মাঠে সক্রিয়। তিন প্রার্থীর নামের মিল ঘিরে ভোটারদের মধ্যে যেমন আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তেমনি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এই ‘তিন সাইফুল’-এর প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এই আসনে মূল লড়াই ঘনীভূত হয়েছে এই তিন প্রার্থীকে ঘিরেই। যদিও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা–১২ আসনে মোট ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যান্য ১২ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র পরিচয়ে নির্বাচনে অংশ নিলেও প্রচার–প্রচারণা ও আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন তিন সাইফুলই।
বেলা ১১টার দিকে শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে কয়েক শতাধিক মানুষের সমাগম দেখা যায়। সেখানে উপস্থিত ৪-৫ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভিড়ের বড় অংশই ৩ প্রার্থীর সমর্থক।
ইসলামী আন্দোলনের সমর্থক মোমিন বলেন, সকাল থেকে কেন্দ্রের সমানে ফুটবল, দাড়িপাল্লা, কোদালের সমর্থকরা মহড়া দিচ্ছে। র্যাব সেনাবাহিনী আসলে সরে যায়।
অন্যদিকে জামায়াতের ওয়ার্ড সভাপতি আয়াতুল্লাহ বলেন, দাঁড়িপাল্লার কেউ কোন ভিড় করছে না। তারা নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট দূরুত্বে রয়েছে। ফুটবল আর কোদাল মার্কার সমর্থকরা ঝামেলা তৈরির চেষ্টা করছে।
এ অভিযোগ অস্বীকার করে ভিন্ন বক্তব্য দেন কোদাল প্রতীকের সমর্থক রবিউল। তিনি বলেন, দুই গ্রুপের লোকজন ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। প্রবেশ মুখের সামনে জটলা তৈরি করছে।
পূর্ব রাজাবাজারের ড. নাজনীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ভোটারের তুলনায় সমর্থকদের উপস্থিতি কয়েকগুণ বেশি। রাস্তার দুই পাশে ছোট ছোট জটলা তৈরি করে অবস্থান নেন তারা। কেন্দ্রের আশপাশে ৩০-৪০ জনের দল গঠন করে শোডাউন করতেও দেখা যায় কিছু সমর্থককে।
তবে কেন্দ্রের ভেতরের পরিবেশ স্বাভাবিক বলে দাবি করেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, কোন ঝামেলা নেই। বাইরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে। যৌথবাহিনী একটু পরপর আসছে।
রুমিন ফারহানা ও জুনায়েদ আল হাবিবের সমর্থকদের হাতাহাতি
‘অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার’