জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, আমরা আগেও বলেছি ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করব না। দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব। প্রয়োজনে ষড়যন্ত্রকারীদের মোকাবিলা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আজ রাত ৪টায় রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দাখিলের পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন।
জামায়াত নেতা অভিযোগ করেছেন, ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অস্বাভাবিক বিলম্ব করছেন। এ একাধিক আসনে ফলাফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, ভোট গণনার কাজে নির্বাচন কমিশনের যারা জড়িত আছেন—রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং ইসির সদস্যরা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকভাবে বিলম্ব করছেন। ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের আসনগুলোতে দায়িত্বরত এজেন্টদের কাছ থেকে পাওয়া শিট অনুযায়ী রাত আটটা থেকে নয়টার মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করার কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দাবি করেন, কিছু আসনে প্রথমে যে শিটে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্বাক্ষর করেছেন, কিছু সময় পর সেটি পরিবর্তন করা হয়েছে। তার অভিযোগ, ঢাকা-১৭ আসনে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে এবং কমপক্ষে আটটি আসনে একইভাবে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, কর্মকর্তারা ভুলের কথা বলে ফলাফল চেঞ্জ করেছেন এবং এসব আসনে কাটাকাটি করে ৫ হাজার ভোট কমানো হয়েছে একটি বিশেষ দলের প্রধানকে সুবিধা দেওয়ার জন্য।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রগুলোতে তাদের এজেন্টদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে তারা প্রেস কনফারেন্স করেছেন এবং পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ঢাকার প্রায় সব আসনেই ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ফলাফল ঘোষণায় গড়িমসি করা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-১৫ আসনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেখানে আমিরে জামায়াত নির্বাচন করেছেন। ওই আসনে তিন লাখের কিছু বেশি ভোটার এবং ১১৯টি কেন্দ্র রয়েছে। তার দাবি, বড় বড় আসনে দ্রুত ফলাফল ঘোষণা করা হলেও ওই আসনে এখনো ফলাফল দেওয়া হয়নি। অথচ এক প্রার্থী পাস করার দাবি করলেও তাদের হিসেবে তারা ২০ হাজার ভোটে এগিয়ে আছেন জামায়াতে আমির।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন এবং তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জড়িত।
তিনি বলেন, সারাদেশের আসন নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনায় একই ধরনের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে, রক্ত দিয়েছে, ১৪ শত শহীদ হয়েছেনএই ধরনের আরেকটি নতুন ফ্যাসিবাদ কায়েমের জন্য নয়।
