ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তিন হেভিওয়েট প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মোহাম্মদ শিশির মনির নিজ নিজ আসনে হেরে গেছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে বিভিন্ন জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এ ফলাফল জানা গেছে।
খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পরাজিত হয়েছেন। এই আসনে তার চেয়ে ২ হাজার ৭০২ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেছেন বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার লবি।
বৃহস্পতিবার রাতে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার আ স ম জামসেদ খোন্দকার ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপির সাবেক এমপি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি আলি আসগার লবি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫৮ ভোট। অন্যদিকে, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে জামায়াতের সাবেক এমপি গোলাম পরওয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫৬ ভোট।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে বিএনপি প্রার্থীর কাছে বড় ব্যবধানে হেরে গেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট।
এ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট। বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আ. মান্নান এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই ও শাল্লা) আসনে বিএনপির প্রার্থী নাছির চৌধুরীর কাছে পরাজয় মেনে নিয়ে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে শিশির মনির লিখেন, আমার আসনে বিজয়ী ধানের শীষ প্রার্থী নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে অভিনন্দন। আপনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা।
নাছির চৌধুরীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট রুদ্র মিজান জানান, রাত ৮টা পর্যন্ত ১১১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৮টি কেন্দ্রের ফল পাওয়া গেছে। এতে নাছির চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে ৭৪ হাজার ২৮৯ ভোট এবং শিশির মনির ৪২ হাজার ৪৬৭ ভোট পেয়েছেন। ওই সময় পর্যন্ত নাছির চৌধুরী ৩১ হাজার ৮২০ ভোটে এগিয়ে ছিলেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নাছির চৌধুরী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে পরাজিত করে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
জয় পেলেন ৭ নারী প্রার্থী
চাঁদপুরের ৪টিতে বিএনপি বিজয়ী, একটিতে স্বতন্ত্র