ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-৪টি আসনে ২৭ প্রার্থীর মধ্যে ১৮ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রদত্ত ভোটের সাড়ে ১২ ভাগ না পাওয়ায় জামানত বাজেয়াপ্ত হয় তাদের।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফল অনুযায়ী, নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে ভোট দিয়েছেন দুই লাখ ৭৪ হাজার ৪০৯ জন। সাড়ে ১২ ভাগ হিসেবে এই আসনে জামানত রক্ষার জন্য ন্যূনতম ৩৪হাজার ৩০১টি ভোট পাওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। সেখানে এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাহেদ আলী জিন্নাহ লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৫২ ভোট। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুল্লাহিল বাকী হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২৬৯ ভোট, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) মেহেদী হাসান ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ২৯৮ ভোট, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি আনছার আলী কোদাল প্রতীকে পেয়েছেন ২৭৬ ভোট, গণসংহতি আন্দোলন সেন্টু আলী মাথাল প্রতীকে ২৮১ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ধানের শীষে সমর্থন দেওয়া মোহাম্মদ ইয়াসির আরশাদ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ ভোট, মোয়াজ্জেম হোসেন হরিণ প্রতিকে পেয়েছেন ১১৫ ভোট।
নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনে মোট ভোট পড়েছে তিন লাখ ৫ হাজার ৩৫০। বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থী ছাড়া বাকি সবাই জামানত হারিয়েছেন। জামানত রক্ষার জন্য এ আসনে ন্যূনতম ৩৮ হাজার ১৬৯ ভোট পাওয়া দরকার ছিল। সেখানে চারজন প্রার্থী ভোট পাননি। এ আসনে জাতীয় পার্টির রকিব উদ্দিন কমল লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন দুই হাজার ৫৮৭ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সিদ্দকী হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন দুই হাজার ৭৫৭ ভোট, গণসংহতি আন্দোলন প্রার্থী তাহামিদা ইসলাম তানিয়া মাথাল প্রতীকে ৪৬৪ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. মো. নুরন্নবী মৃধা ফুটবল প্রতীকে ৬২১ ভোট পেয়েছেন।
নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে ভোট পড়েছে দুই লাখ ৩৩ হাজার ৫৮১টি। জামানত রক্ষার ন্যূনতম দরকার ছিল ২৯ হাজার ১৯৭ভোট। শর্ত পূরণ করতে না পারায় এ আসনে জামানত হারিয়েছেন ৪ জন প্রার্থী। জাতীয় নাগরিক পার্টির এস এম জার্জিস কাদির শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ২০ হাজার ৭০৭ ভোট, জাতীয় পার্টির আশীক ইকবাল লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন দুই হাজার ১১৯ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টি প্রার্থী খলিলুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ১০৫ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৭২ ভোট।
নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনে মোট ভোট পড়েছে তিন লাখ ১৯ হাজার ১৪১টি। জামানত রক্ষায় ন্যূনতম ৩৯ হাজার ৮৯২ ভোট প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এখানকার বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া তিন জন প্রার্থী জামানত রক্ষা করতে পারেননি। জাতীয় পার্টির ইউসুফ আহমদ লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন দুই হাজার ৭৯৯ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মো. এমদাদুল্লাহ্ হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন তিন হাজার ৮৪৫ ভোট ও আমার বাংলাদেশ পার্টি প্রার্থী মো. মোকছেদুল মোমিন ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন ২৫৯ ভোট।
জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এবং স্বতন্ত্রসহ নয় প্রার্থী ছাড়া বাকি সবাই জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচনের ফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী শর্ত পূরণ না হওয়ায় জামানত বাজেয়াপ্ত হবে বলে জানিয়েছেন নাটোর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম।
