‘ম্যানলি হিরো’র ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মৃত্যুর আগে হঠাৎ বদলে যান মান্না

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম

‘ম্যানলি হিরো’ চিত্রতারকা আসলাম তালুকদার মান্নার ১৮তম মৃত্যুবাষিকী আজ। মৃত্যুর আগে বেশ খানিকটা পরিবর্তন এসেছিল এই দাপুটে অভিনেতার। একদিকে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব,চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও অভিনয় নিয়ে যখন তার ব্যস্ততা আকাশচুম্বী- তবুও আগের চেয়ে অনেক বেশি বিনয়ী ও আন্তরিক হয়ে ওঠেন তিনি। বিনোদন সাংবাদিকদের সঙ্গেও আরও গভীর শখ্যতা তৈরি করেন। 

২০০৮ সালের এই দিনে (১৭ ফেব্রুয়ারি)  হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে যখন এই তারকা মারা যান, তখন খবরে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন তার লাখো ভক্ত-অনুরাগী। তাকে একনজর দেখার জন্য অনেক জেলা থেকে ছুটে আসেন এফডিসিতে। শুধু তা-ই নয়, মান্নার মরদেহ নিয়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্স গাড়িটি দেখার জন্য ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলে তার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ অপেক্ষায় থাকেন। 

আজ এই তারকার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মান্নার স্ত্রী শেলী মান্না ও মান্না ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলা চলচ্চিত্রে মান্নার অভাব এখনো পূরণ হয়নি বলে চলচ্চিত্রবোদ্ধারাও অভিমত দেন। তাদের মতে, মান্না অভিনীত ছবিগুলোয় দর্শক যেভাবে হলমুখী হতেন, তা এখন নেই বললেই চলে। তার ছবির দর্শক-ভক্তরাই আলাদা। অনেক নায়ক এফডিসিতে আসবে যাবে, তবে মান্না চির অম্লা-কিংবদন্তি হয়ে থেকে যাবেন আজীবন। 

১৯৮৪ সালে বিএফডিসি আয়োজিত নতুন মুখের সন্ধানে কার্যক্রমের মাধ্যমে মান্না চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন। তার প্রথম অভিনীত সিনেমা ‘তওবা’ (১৯৮৪)। ‘আম্মাজান’খ্যাত মান্না ২৪ বছরের কর্মজীবনে তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমা হচ্ছে সিপাহী, যন্ত্রণা, অমর, পাগলী, দাঙ্গা, ত্রাস, জনতার বাদশা, লাল বাদশা, আম্মাজান, দেশ দরদী, অন্ধ আইন, স্বামী-স্ত্রীর যুদ্ধ, অবুঝ শিশু, মায়ের মর্যাদা, মা-বাবার স্বপ্ন, হৃদয় থেকে পাওয়া ইত্যাদি। 

মান্না কেবল একজন অভিনেতাই ছিলেন না, প্রযোজক হিসেবেও উপহার দিয়েছেন অনেক সুপারহিট সিনেমা। তার ‘কৃতাঞ্জলি চলচ্চিত্র’ প্রযোজনা সংস্থা থেকে লুটতরাজ, স্বামী-স্ত্রীর যুদ্ধ, দুই বধূ এক স্বামী, আমি জেল থেকে বলছি, পিতা-মাতার আমানতসহ মোট আটটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত