জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগুনে যে ক্ষোভ, আকাক্সক্ষা ও নৈতিক দাবি একসঙ্গে জ্বলে উঠেছিল, তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার ইতিহাসের ক্যালেন্ডারে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে। সেদিন সাংসদ ও নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিল। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত সেই আনুষ্ঠানিকতা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়েছে। কিন্তু সাংসদদের শপথের শব্দ কোটি মানুষের হৃদয়ে প্রতিধ্বনি তুলেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ এমন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে সরকার পরিবর্তন মানেই কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয় বরং রাষ্ট্রচিন্তার পুনর্লিখন। জুলাইয়ের আগে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল অন্ধকারগ্রস্ত, ক্লান্ত ও ভারাক্রান্ত। দীর্ঘদিনের কর্র্তৃত্ববাদী শাসন, নির্বাচনের নামে প্রহসন, বিরোধী মত দমন, প্রশাসনের দলীয়করণ, গুম, খুন এবং ভয়ের সংস্কৃতি এ সবের ফলে রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। নাগরিকরা অনুভব করছিলেন, রাষ্ট্র যেন ধীরে ধীরে তাদের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল বিস্ফোরিত নীরবতার ভাষা। ছাত্র-যুবক, শ্রমজীবী মানুষ, পেশাজীবী সবার কণ্ঠে ছিল এক দাবি: বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক, মর্যাদাভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। অবশেষে কর্র্তৃত্ববাদী স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগ সেই দীর্ঘ কালো অধ্যায়ের ইতি টানে। কিন্তু একটি শাসকের বিদায় মানেই কি কাঠামোগত পরিবর্তন? ইতিহাস বলে না। এই অভ্যুত্থান কেবল একটি সরকারের পতন ছিল না; ছিল দমবন্ধ রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে গণরায়। বলা যায় জুলাই শুধু পতনের নয়, পুনর্গঠনেরও আহ্বান।
গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে যে পরিবর্তন দেখা গেছে, তা শুধু ক্ষমতার পালাবদলে সীমাবদ্ধ থাকেনি। নতুন করে আলোচনায় এসেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, বিচার বিভাগকে পৃথকীকরণ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা। তরুণদের মধ্যে এক ধরনের বাস্তববাদী আদর্শবাদ কাজ করছে তারা ইতিহাসকে সম্মান করতে চায়, কিন্তু ইতিহাসের নামে বিভাজন নয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ তাদের কাছে গৌরবের উৎস, কিন্তু সেটিকে দলীয় আধিপত্যের ভিত্তি হিসেবে নয় বরং গণতন্ত্র, সমতা ও মানবিক মর্যাদার চেতনা হিসেবে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করার আকাক্সক্ষা প্রকাশ করেছে। এই আকাক্সক্ষায় সেতু হয়ে আসে অন্তর্বর্তী অধ্যায়। অন্তর্বর্তী সময়ের দায়িত্ব নিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে দেড় বছর দেশ পরিচালনা করেন, তা ছিল রাজনৈতিক উত্তাপ প্রশমন এবং আস্থা পুনর্গঠনের এক অধ্যায়। জুলাই সনদ প্রণয়ন ও স্বাক্ষর, সংস্কার প্রস্তাব এবং গণভোটের আয়োজন, নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের উদ্যোগ, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ, নাগরিক সমাজকে সম্পৃক্ত করা এসব পদক্ষেপ একটি তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ তৈরি করে। লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি, প্রচারণায় সব দলের সমান অধিকার, ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য আগাম নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি এবং বিজয়ী-পরাজিত উভয় পক্ষের শান্ত থাকার আহ্বান এসব উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, গণতন্ত্র কেবল ভোটের দিনেই নয়, ফলাফলের পরের দিনগুলোতেও পরীক্ষিত হয়।
নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ( বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোটের বিশাল বিজয়, রাজনৈতিক বাস্তবতাকে নতুন রূপ দিয়েছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। যা প্রতীকী ও বাস্তব, দুই অর্থেই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন ও দূরে বসে দলের আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিয়ে বিপ্লবে শামিল হওয়ার পর তার এই প্রত্যাবর্তন কেবল ব্যক্তিগত বিজয় নয়; এটি নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশার প্রতিফলন। দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা-সংগ্রাম ও প্রবাসজীবনের পর তার ফিরে আসাকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। নির্বাচনের পর এখন তিনি প্রধানমন্ত্রী। নতুন প্রজন্ম তাকে দেখছে পরিবর্তনের অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে। যিনি প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, উদ্যোক্তা সংস্কৃতি এবং কর্মসংস্থানের বাস্তব কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিজয় যত বড়, দায়ও তত বড়। আমি নিজেও সুইডেন প্রবাসী। দূর উত্তরের শীতল প্রান্তর থেকে যখন দেশের নির্বাচন, নতুন সরকার গঠন ও মন্ত্রিসভার শপথের খবর দেখি, হৃদয়ে এক অদ্ভুত টান অনুভব করি। সুইডেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কল্যাণরাষ্ট্রের কার্যকারিতা দেখি দেখি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সামাজিক নিরাপত্তা, নাগরিক সেবার সহজলভ্যতা। মনে হয়, আমার দেশও তো এমন হতে পারে। গতকালের শপথ কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার নয়; এটি একটি কল্যাণধর্মী রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকার যেখানে রাষ্ট্র নাগরিকের অভিভাবক নয়, সহযোগী; যেখানে আইন ভয়ের নয়, ন্যায়ের প্রতীক; যেখানে তরুণরা ভবিষ্যৎ খুঁজতে বিদেশ নয়, নিজের দেশেই সম্ভাবনা তৈরি করবে। ইউরোপে বসবাসের অভিজ্ঞতায় তারেক রহমানও নিশ্চয়ই, আমার মতো স্বপ্ন দেখছেন। তারেক রহমানের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছেন তার পিতা মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। হত্যাকাণ্ড, মিথ্যা মামলা, কারাবরণ, নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের রাজনৈতিক ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে। তবে আপসহীনতা যদি গণতান্ত্রিক অন্তর্ভুক্তির সঙ্গে যুক্ত না হয়, তবে তা অনমনীয়তায় রূপ নিতে পারে। রাষ্ট্র পরিচালনায় দৃঢ়তা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন সহনশীলতা ও সংলাপের সংস্কৃতি। কারণ গণতন্ত্র কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতার খেলা নয়; এটি সহাবস্থানের শিল্প। এবারের আরেকটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ দেশের সাংবিধানিক বিবর্তনের নতুন অধ্যায়। প্রায় সব দলের সম্মতিতে গৃহীত এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথমবারের মতো নিম্নকক্ষের পাশাপাশি একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। নিম্নকক্ষ সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন করবে, আর উচ্চকক্ষ আইন পর্যালোচনা ও সংশোধনের সুযোগ দেবে। এতে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় গভীরতা ও ভারসাম্য আসবে, তাড়াহুড়ো কমবে, বিশেষজ্ঞ মতামত প্রতিফলিত হবে। গণতন্ত্রের প্রাণ শক্তিশালী বিরোধী দল। শক্তিশালী বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র অসম্পূর্ণ। এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি প্রভাবশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্র্র্ভূত হয়েছে। তাদের সামনে সুযোগ এসেছে দায়িত্বশীল সমালোচনা, বিকল্প নীতিপ্রস্তাব এবং ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে সংসদীয় ‘চেক অ্যান্ড ব্যালান্স’ শক্তিশালী করার। বিরোধী দল কেবল আন্দোলনের ভাষায় নয়, যদি প্রস্তাবের ভাষায় রাজনীতি করে এবং সরকার যদি সমালোচনাকে গণতান্ত্রিক পরিসরের অংশ ও গণতন্ত্রের স্বাভাবিক উপাদান হিসেবে গ্রহণ করে, তবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি নতুন মাত্রা পেতে পারে। তখনই রাজনৈতিক সহাবস্থানের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
এই পথে যে দলগুলো পা বাড়িয়েছে , তা বুঝা গেল পরাজিত পক্ষের ফলাফল মেনে নিয়ে বিজয়ী পক্ষকে অভিনন্দন জানানোর ঘটনায়। যদিও কিছু ফলাফলের ক্ষেত্রে তারা অনিয়মের অভিযোগ করে আপত্তি জানিয়েছেন। কিন্তু মোটা দাগে ফল মেনে নিয়েছেন তারা। জানিয়েছেন শুভেচ্ছা। একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন। বাংলাদেশের নির্বাচনী কালচারে এটি এক বিরল ঘটনা। অন্যদিকে বিজয়ী তারেক রহমান দলবল নিয়ে জামায়াতের আমির ও এনসিপি প্রধানের বাসায় ফুল নিয়ে দেখা করতে গেছেন। এসব আমাদের আশাবাদী করে। শুরুটা সুন্দর হয়েছে। এই সৌন্দর্য বেঁচে থাক। ফ্যাসিবাদ যাতে ফিরে না আসে, তার জন্য প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক রক্ষাকবচ। ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন কমানো, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যমের ওপর অযাচিত চাপ বন্ধ করা এসব পদক্ষেপ অপরিহার্য। ইতিহাস দেখিয়েছে, এক স্বৈরশাসকের পতনের পরও যদি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার না হয়, তবে নতুন রূপে কর্র্তৃত্ববাদ ফিরে আসতে পারে। তাই আইন ও সংবিধানে এমন সুরক্ষা থাকা দরকার, যা ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনকে রুখে দিতে পারে। জুলাই সনদ হচ্ছে অভ্যুত্থানের নৈতিক ভিত্তি। স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যকারিতা, মতপ্রকাশের নিশ্চয়তা এসব অঙ্গীকার হয়তো বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। যদিও ‘কিন্তু’ রয়ে গেছে। তবু প্রয়োজন সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা, অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সংসদীয় তদারকি। আশা করা যায়, তারেক রহমানের সরকার এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করবে। ডিপ স্টেটের প্রভাব কমাতে নিরাপত্তা সংস্থার ওপর সংসদীয় নজরদারি, উচ্চপদে নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং সরকারি ব্যয়ের উন্মুক্ত তথ্যপ্রকাশ অপরিহার্য। নতুবা গণঅভ্যুত্থানের নৈতিক শক্তি কাগুজে প্রতিশ্রুতিতে পরিণত হবে। পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা নতুন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ইতিহাস, ভূগোল ও অর্থনীতির কারণে অপরিহার্য। সীমান্ত, পানি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা প্রশ্নে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে সংলাপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম সার্ক পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ বাংলাদেশকে আঞ্চলিক নেতৃত্বের সুযোগ দিতে পারে। সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন শহীদ জিয়া। এবার তার পুত্রের হাতে পুনরুজ্জীবনের পালা।
নতুন প্রজন্ম এমন বাংলাদেশ চায়, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি থাকবে শ্রদ্ধায়, কিন্তু বর্তমান রাজনীতিতে তা বিভাজনের উৎস হবে না। রাষ্ট্র হবে কল্যাণমুখী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে সমঅধিকার নিশ্চিতকারী। সামনের পথ চ্যালেঞ্জের। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো, প্রশাসনিক সংস্কার বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা এ সবই নতুন নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ভারসাম্য রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কূটনীতি বহুমাত্রিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল। সব মিলিয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী মুহূর্ত তৈরি করেছে। এটি প্রমাণ করেছে যে, জনগণের সম্মিলিত শক্তি ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিতে পারে। কিন্তু প্রকৃত পরিবর্তন তখনই টেকসই হবে, যখন আন্দোলনের আবেগ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থায় রূপ নেবে। নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ বাস্তব হবে কি না, তা নির্ভর করবে তারা কতটা ধারাবাহিকভাবে এই পরিবর্তনের চর্চা বজায় রাখতে পারে তার ওপর। দেশবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নতুন মন্ত্রিসভা কি সত্যিই পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে? ইতিহাস একটি বিরল সুযোগ দিয়েছে। জুলাইয়ের আগুন আমাদের জাগিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সেতুবন্ধ আস্থা ফিরিয়েছে, নির্বাচনের রায় দিকনির্দেশ দিয়েছে। এখন প্রয়োজন প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও নৈতিক দৃঢ়তা। যদি নতুন সরকার ক্ষমতার পরিধি স্বীকার করে, প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে, বিরোধী দলকে সম্মান দেয় এবং জুলাই সনদ ও সংস্কার বাস্তবায়ন করে, তবে গতকালের দিনটি কেবল আনুষ্ঠানিক শপথের দিন হয়ে থাকবে না—এটি হবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের সূচনা। ইতিহাসের পৃষ্ঠায় হয়তো লেখা থাকবে ঐ দিনেই রাষ্ট্র নিজেকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছিল।
লেখক: কবি ও সাংবাদিক