বিয়ে সহজ করার তাগিদ

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৫ এএম

ইসলাম মানবতার ধর্ম। ইসলাম কখনোই মানুষের স্বাভাবিক আকর্ষণ ও চাহিদাকে অস্বীকার করে না বা তা দমন করতে বলে না। হজরত রাসুল (সা.) যুবসমাজকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে, সে যেন দ্রুত বিয়ে করে। কারণ বিয়ে দৃষ্টি সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যে সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে। কারণ রোজা তার জন্য যৌন চাহিদার ঢাল স্বরূপ।’ (সহিহ বুখারি) তাই ইসলাম বিয়েকে সহজ করার তাগিদ দিয়েছে।

বিয়ে শুধুমাত্র চাহিদা পূরণের মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি পবিত্র ইবাদত, পরিবার ও সমাজের মূল ভিত্তি এবং বৈধভাবে প্রশান্তি লাভের সর্বোত্তম উপায়। সুরা রুমের ২১ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ অত্যন্ত সুন্দরভাবে বলেন, ‘তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।’

প্রকৃত ভালোবাসা, স্থায়ী সুখ ও আত্মিক প্রশান্তি শুধুমাত্র বৈধ বিবাহের মাধ্যমেই অর্জিত হয়, হারাম সম্পর্কের মাধ্যমে কখনোই নয়। হারাম সম্পর্ক শুধু ক্ষণিকের লালসা মেটায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে শুধু দুঃখ, অনুশোচনা ও ধ্বংস বয়ে আনে।

সমাজের দায়িত্ব হলো বিয়েকে সহজ করা, অতিরিক্ত খরচ ও যৌতুকের মতো কুপ্রথা বন্ধ করা এবং যুবক-যুবতীদের দ্রুত বিয়ের ব্যবস্থা করা, যাতে তারা হারাম কাজ থেকে রক্ষা পায়।

আমাদের সমাজে বিয়েকে কঠিন করা হয়েছে। এটি সামগ্রিকভাবে সমগ্র সমাজের বড় একটি সমস্যা। অশ্লীল সংস্কৃতির বিষাক্ত প্রভাব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ধ্বংসাত্মক ভূমিকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষার অভাব, পরিবারে ধর্মীয় মূল্যবোধের দুর্বলতা, এসবের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিবেশ, যেখানে হারাম সম্পর্ক একদম স্বাভাবিক বিষয় মনে হয়। তাই শুধু ব্যক্তিগত সংশোধন যথেষ্ট নয়, বরং প্রয়োজন সমষ্টিগত প্রতিরোধ ও ব্যাপক সংস্কার।

বাবা-মা, শিক্ষক, আলেম, সমাজসেবক, সচেতন নাগরিক, প্রত্যেকের রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। প্রথমত, সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই হালাল-হারামের স্পষ্ট শিক্ষা দিতে হবে এবং তাদের মধ্যে আল্লাহভীতি তৈরি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সামাজিকভাবে অশ্লীল সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। তৃতীয়ত, বিয়েকে সহজ করতে হবে, যৌতুকপ্রথা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে এবং যুবক-যুবতীদের দ্রুত বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। চতুর্থত, ইসলামি জ্ঞান প্রচারের জন্য ব্যাপক উদ্যোগ নিতে হবে, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ সর্বত্র নৈতিক শিক্ষার সুব্যবস্থা করতে হবে।

লেখক : মুদাররিস, জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া, কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত