চলছে বিশ্ব এআই সম্মেলন

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৫ এএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন বিশ্ব রাজনীতি, অর্থনীতি ও প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু। এই বাস্তবতায় ভারত সাম্প্রতিক সময়ে আয়োজন করেছে বহুল আলোচিত AI Action Summit।  ১৬ ফেব্রয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত  Delhi-তে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, গবেষক ও উদ্যোক্তারা অংশ নেন। বৈশ্বিক এআই শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের কাঠামো তৈরি করা গুগল, মাইক্রোসফট ও ওপেনএআইয়ের মতো মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানির প্রধানরাও থাকছেন।

কোন দিন কী হচ্ছে : সম্মেলনের প্রথম দিন ছিল উদ্বোধনী অধিবেশন ও নীতিগত আলোচনায় ভরপুর ছিলো। ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi  ভার্চুয়াল ও সরাসরি বক্তব্যে বলেন, এআই হবে ‘নতুন যুগের উন্নয়নের ইঞ্জিন’। এ দিন মূলত এআই নীতিমালা, তথ্য সুরক্ষা, নৈতিক ব্যবহার ও গ্লোবাল সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। দ্বিতীয় দিনটি ছিল প্রযুক্তি প্রদর্শনী ও স্টার্টআপ পিচ সেশনকেন্দ্রিক। স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা ও ভাষাপ্রযুক্তিতে এআই-ভিত্তিক উদ্ভাবন তুলে ধরেন তরুণ উদ্যোক্তারা। বিশেষ করে ভারতীয় ভাষাভিত্তিক এআই মডেল তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়। তৃতীয় দিন আয়োজন করা হয় শিল্প খাত ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠক। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল ডেটা শেয়ারিং, গবেষণা সহযোগিতা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা : ভারত ইতোমধ্যে ‘IndiaAI Mission’ ঘোষণা করেছে, যার লক্ষ্য এআই গবেষণা, কম্পিউটিং অবকাঠামো ও দক্ষতা উন্নয়ন। সরকার জানিয়েছে, সুপারকম্পিউটিং সুবিধা বাড়ানো, দেশীয় চিপ উন্নয়ন এবং পাবলিক ডেটা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলায় বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। কৃষি খাতে ফলন পূর্বাভাস, স্বাস্থ্য খাতে রোগ নির্ণয়, বিচারব্যবস্থায় নথি বিশ্লেষণ এবং স্মার্ট সিটি ব্যবস্থাপনায় এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য এআই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর কথাও বলা হয়েছে।

এআই নিয়ে ভাবনা : ভারত এআইকে কেবল প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন হিসেবে নয়, সামাজিক উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবেও দেখছে। সরকারের দৃষ্টিতে এআই হতে হবে ‘ওহপষঁংরাব ধহফ জবংঢ়ড়হংরনষব’ অর্থাৎ সবার জন্য উপযোগী ও নৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত।

ডিপফেক, তথ্যভিত্তিক বিভ্রান্তি এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তাই নীতিনির্ধারকরা বলছেন, দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনঃপ্রশিক্ষণ কর্মসূচি জোরদার করতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, বিপুল জনসংখ্যা, শক্তিশালী আইটি খাত এবং স্টার্টআপ সংস্কৃতির কারণে ভারত এআই খাতে বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে। তবে তথ্য সুরক্ষা আইন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতাই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ পথচলা।

বলা যায়, প্রথমবারের মতো বিশ্বের উন্নয়নশীল কোনো দেশে এ ধরনের বড় কোনো বৈশ্বিক ইভেন্ট। বিভিন্ন এআই কোম্পানির জন্য এখন অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে ভারত। ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে এআই ও ক্লাউড অবকাঠামো খাতে সব মিলিয়ে প্রায় ৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে গুগল, মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনের মতো বিভিন্ন মার্কিন কোম্পানি। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, ‘এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য সবার কল্যাণ ও সুখ। মানুষের প্রয়োজনে এআইকে কাজে লাগিয়ে মানবকেন্দ্রিক উন্নতির পথে আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকারের প্রতিফলন এই সম্মেলন।’সম্মেলনের মূল বক্তাদের তালিকায় রয়েছেন বিখ্যাত সব ব্যক্তিত্ব। যাদের মধ্যে রয়েছেন গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট-এর প্রধান সিইও সুন্দার পিচাই, ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান, অ্যানথ্রপিক-এর সিইও দারিও আমোদেই ও রিলায়েন্সের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি। ভারতের এই সম্মেলনে প্রায় আড়াই লাখ দর্শনার্থী আসতে পারে। ৩০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত বিশাল কনভেনশন সেন্টার ‘ভারত ম-পম’-এর ৭০ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে তিনশরও বেশি প্রদর্শক নিজেদের প্রযুক্তি তুলে ধরবেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত