আরও এক বিশ্বজয়ী স্বীকৃতি

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১১ এএম

অস্কারজয়ী মালয়েশীয় অভিনেত্রী মিশেল ইয়োর মুকুটে যুক্ত হলো আরও একটি বিশ্বজয়ী স্বীকৃতি। দীর্ঘ চার দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সম্মানস্বরূপ হলিউডের ঐতিহাসিক ‘ওয়াক অব ফেম’-এ তার নামে একটি স্থায়ী স্মৃতি তারকা উন্মোচন করা হয়েছে। গত বুধবার লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউড বুলেভারে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২,৮৩৬তম এই তারকাটি উন্মোচিত হয়। অনুষ্ঠানে নিজের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা স্মরণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী। তিনি জানান, মালয়েশিয়া থেকে হলিউডের এই যাত্রা তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। মাঝপথে বহুবার নিজের যোগ্যতা নিয়ে সংশয় জাগলেও শেষ পর্যন্ত নিজের কাজের প্রতি নিষ্ঠাই তাকে এই শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।

উন্মোচন অনুষ্ঠানে মিশেল ইয়োর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার ক্যারিয়ারের দুই কারিগর বিখ্যাত নির্মাতা আং লি এবং জন এম চু। বিশেষ করে আং লির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মিশেল বলেন, ‘ক্রাউচিং টাইগার, হিডেন ড্রাগন’-এর মাধ্যমে আং লি তাকে শুধু একজন অ্যাকশন হিরো হিসেবে নয়, বরং একজন শক্তিমান অভিনেত্রী হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছিলেন। ক্যারিয়ারে এমন সাফল্যে আবেগঘন কণ্ঠে মিশেল বলেন, ‘মালয়েশিয়া থেকে হলিউডের এই পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। মাঝপথে অনেকবার নিজের যোগ্যতা নিয়ে মনে সংশয় জেগেছিল।

১৯৮৩ সালে ‘মিস মালয়েশিয়া’ মুকুট জয়ের মাধ্যমেই বিনোদন জগতে পথচলা শুরু হয়েছিল অভিনেত্রী মিশেলের। ক্যারিয়ারের শুরুতে নিজেকে হংকং সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে যুক্ত করেন। অভিনেত্রী হয়েও নিজের স্টান্ট নিজেই করতেন, যা দেখে রীতিমতো চমকে গিয়েছিল সিনেমার দর্শকরা। জ্যাকি চ্যানের মতো মহাতারকার বিপরীতে অভিনয় করে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান। বিশ্ব শোবিজ অঙ্গনে অ্যাকশন হিরোইন হিসেবে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরির করলেও, কমেডি সিনেমাতেও বাজিমাত করেছেন তিনি। জেমস বন্ড সিরিজের ‘টুমরো নেভার ডাইস’ এবং ‘ক্রাউচিং টাইগার, হিডেন ড্রাগন’ সিনেমার মাধ্যমে দর্শকদের মনে জায়গা করে নেন। ২০২৩ সালে ‘এভরিথিং এভরিহোয়্যার অল অ্যাট ওয়ান্স’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর অস্কার জিতেছিলেন তিনি। অস্কার ছাড়াও তার সাফল্যের ঝুলিতে আছে গোল্ডেন গ্লোব, স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড এবং বাফটার মতো অসংখ্য সম্মাননা। টাইম ম্যাগাজিনের বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকাতেও স্থান করে নিয়েছেন এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী।

মিশেল ইয়োকে বলা হয় ‘অ্যাকশন কুইন’। বয়স ষাট পেরিয়ে গেলেও এখনো ধুন্ধুমার মারামারিতে তার বিকল্প খোঁজা কঠিন। তিনি বলেন, ‘অভিনয় নয়, আমার প্রথম প্রেম ছিল নাচ। খুব ছোটবেলায় বুঝতে পেরেছিলাম, শারীরিক কসরতের মধ্য দিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের একটা গুণ আমার আছে। দিন-রাত চর্চা করে নিজেকে তৈরি করছিলাম। নানা দ্বিধা যখন কানের কাছে ফিসফিস করত, তখন নাচেই আমি নিরাপদ বোধ করতাম। ধরেই নিয়েছিলাম, নাচই আমার ভবিষ্যৎ। তাই ইংল্যান্ডের একটা ব্যালে স্কুলে ভর্তি হয়ে শুরু হয় আমার স্বপ্নে বাঁচা। কিন্তু জীবন আমার জন্য অন্য পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছিল। মেরুদণ্ডে একটা ইনজুরি হলো। ব্যস, সব স্বপ্ন যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। মনে হচ্ছিল জীবনটাই শেষ। এরপর পথ আমার পাল্টে গেল।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত